দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় শতভাগ নিশ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ।
সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন থাকা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এরপরও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অলি আহমদ বলেন, বিএনপির প্রার্থীর জয় শতভাগ নিশ্চিত হলেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জয়-পরাজয় মুখ্য বিষয় নয়। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ১১ দলীয় জোট দল হিসেবে সবচেয়ে বড় জোট। এই হিসাবে প্রথমত, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য আমাদের একজন প্রার্থী দেয়ার দরকার ছিল। দ্বিতীয়ত, প্রার্থী না দিলে সরকারি দলসহ সবাই তখন কেন প্রার্থী দেয়া হলো না, সে ব্যাপারে প্রশ্ন তুলতো যে- ১১ দলে কি কোনো প্রার্থীই নেই। কাজেই এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি আমরা জনগণকে বলতে চাই- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলেরও প্রার্থী আছে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। আর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ নির্বাচনে মনোনয়পত্র দাখিলের জন্য সময় নির্ধারিত ছিল। নির্ধারিত এই সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে
ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ডক্টর. অলি আহমদের (বীর বিক্রম) পক্ষে দু’টি মনোনয়পত্র প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচনি কর্তার কার্যালয় বরাবর দাখিল করা হয়েছে। ফলে একাধিক প্রার্থী থাকায় বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের মধ্যদিয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত হবে।
উল্লেখ্য, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও ভোট দেয়ার সুযোগ নেই। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সংসদ সদস্যরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিতে পারেন না।