তৃণমূলের রাজনীতি থেকে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকের পর তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়। একই দিন তার পক্ষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্রজীবনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনার সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। শিক্ষাজীবন শেষে শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে যুক্ত হলেও ১৯৮৬ সালে চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় শুরু হয়। নব্বইয়ের দশকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন তিনি। ২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হন মির্জা ফখরুল। দীর্ঘ সময় দলটির শীর্ষ রাজনৈতিক মুখ হিসেবে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
২০২৬ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন তিনি। এবার রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ায় দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছেন মির্জা ফখরুল। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভোট ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত হবে বঙ্গভবনে তার যাত্রা।