বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ‘স্মরণীয়’ করে তুলতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, এ সফর দুই দেশের জনগণ ও ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ভারতীয় হাইকমিশনার এসব কথা বলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি ঘিরে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই ভারতীয় হাইকমিশনার এ মন্তব্য করলেন।
দীনেশ ত্রিবেদী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার কাছে বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে বলেছেন, দুই দেশের নেতাদের সাক্ষাৎ হওয়া প্রয়োজন। তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাকে সম্মানজনক অভ্যর্থনা জানানোর নিশ্চয়তাও দিয়েছেন মোদি।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, তারেক রহমানের সফরকে স্মরণীয় করে তুলতে চান নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন তিনি। এই সম্পর্কের সুফল শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা পাবেন বলে মন্তব্য করেন দীনেশ ত্রিবেদী।
অতীতের মতপার্থক্যকে পাশে রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতীত ভুলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং মতপার্থক্যগুলো সমাধানের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। দুটি গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং আলোচনার মাধ্যমে সেগুলোর সমাধান সম্ভব।
বাংলাদেশের মানুষের উদ্বেগের বিষয়গুলো ভারত উপলব্ধি করে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক সমতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অংশীদারত্ব। দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য পারস্পরিক ও শর্তহীন আস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সাময়িক কিছু বাধা এলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে দুর্বল হতে দেওয়া উচিত নয়। নতুন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং তরুণদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।