বিএনপি সরকার জনগণের সরকার নয়, বরং সিন্ডিকেটের সরকারে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় আসার পর জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বিএনপি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের রক্তের সঙ্গেও বেইমানি করেছে দলটি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাটাখালী গোলচত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
হান্নান মাসউদ বলেন, এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি এখন দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। বিএনপির ইতিহাস চাঁদাবাজি, গুন্ডাতন্ত্র ও সন্ত্রাসের ইতিহাস বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির অতীত শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মাগুরা ও মিরপুরের নির্বাচনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল দলটি। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচন এবং ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিতর্কিত পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংবিধান, বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকার সেই জনরায় উপেক্ষা করছে।
দেশের জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষকে বাড়তি দামে সেবা নিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে এসব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হান্নান মাসউদ বলেন, বিএনপি সরকারকে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম কমানো এবং চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝতে ব্যর্থ হলে বিএনপিকেও ক্ষমতা ছাড়তে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।