ঢাকার আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও পথচারী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ ও বিক্ষোভের জেরে শিল্পাঞ্চলের অন্তত ১৩টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টার পর আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার, নয়াপাড়া ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এ সময় কন্টিনেন্টাল, এআর জিন্স ও সিডব্লিউএসহ কয়েকটি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে এআর জিন্স ও কন্টিনেন্টাল কারখানার বিভিন্ন স্থাপনার কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
পরে দুপুরের দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা নিশ্চিন্তপুর এলাকায় আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়।
একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক ও পথচারী আহত হন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে নিউ এইজ, নিট এশিয়া, স্টার্লিং ক্রিয়েশন, কন্টিনেন্টাল ও এআর জিন্স উল্লেখযোগ্য। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, তাঁর কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় ছয়টির মতো কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।