মুক্তিযুদ্ধে শেখ হাসিনার পরিবারের কোনো অবদান ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে তার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শেখ হাসিনার পরিবারের কেউ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেননি। তার দাবি, ওই সময় তারা পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ঢাকায় অবস্থান করেছিলেন।
জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া সন্তান ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের আদর্শকে ধারণ করেছিলেন। এ কারণে শেখ হাসিনা জিয়া পরিবারের প্রতি একের পর এক প্রতিহিংসামূলক আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে যখন বালুর ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল, তখনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কোকো মারা যান। সে সময় খালেদা জিয়ার ওপর গোলমরিচের স্প্রে নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।
রিজভীর অভিযোগ, জিয়া পরিবারের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক প্রভাব মুছে দিতে শেখ হাসিনা নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করেছেন বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।
একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে কোনো ধরনের তুলনা করে ২০২৪ সালের আন্দোলনকে বড় বা ছোট দেখানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
মুক্তিযোদ্ধাদের কোনোভাবেই ছোট করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে রিজভী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তিকে দেশের জনগণ আর সুযোগ দেবে না।