আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘না ভোট’ ব্যবস্থা আবারও ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সরকার সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ জারি করে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করার পর এটি আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে প্রকাশ করা হয়।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনী এলাকায় যাচাই-বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর যদি একজন প্রার্থী অবশিষ্ট থাকেন, তবে ভোট অনুষ্ঠিত হবে সেই প্রার্থী ও ‘না ভোট’-এর মধ্যে। প্রার্থী প্রাপ্ত ভোট যদি ‘না ভোট’-এর চেয়ে বেশি হয়, তাহলে তিনি নির্বাচিত হবেন; কিন্তু ‘না ভোট’ বেশি হলে ওই এলাকায় নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এই বিধান কার্যকর হলে ২০১৪ সালের মতো বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ আর থাকবে না, যখন ১৫৪ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। সংশোধনীতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী যদি মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেন, তাহলে আপিলের সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা যাবে না।
এছাড়া দ্বিতীয়বারের নির্বাচনে যদি আবারও একই প্রার্থী মনোনীত হন এবং ‘না ভোট’ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া বৈধভাবে ভোট হয়, তবে তখন রিটার্নিং অফিসার সেই প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করতে পারবেন।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদিত এই সংশোধনীকে সরকার বলছে, এটি ভোটারের মতামত ও অংশগ্রহণের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি পদক্ষেপ। আইন বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, এই পরিবর্তন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘না ভোট’ ব্যবস্থার পুনঃপ্রবর্তন ভোটারদের জন্য একটি শক্ত বার্তা—এখন আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের সুযোগ থাকবে না।