রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তিনি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ‘প্লট জালিয়াতি’ সংক্রান্ত তিনটি মামলার অন্যতম আসামি।
বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন খুরশীদ আলম। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই মামলায় অন্য আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছেন। আদালত ইতোমধ্যে তিনজন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছে এবং আগামী ৩ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রসিকিউটর খান মোহাম্মদ মঈনুল হাসান লিপন জানান, মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে।
গত ৩১ জুলাই আদালত এই তিন মামলায় চার্জ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেন। আসামিরা উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। তিন মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১২ জন, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৭ জন এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২০ জুলাই ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত এই ছয়টি মামলা বিচারের জন্য বিশেষ জজ আদালত ৪ ও ৫ এ প্রেরণ করেন।
মামলার আসামিদের তালিকায় রয়েছেন শেখ রেহানা, তার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সদস্য মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, কবির আল আসাদ, তন্ময় দাস, নুরুল ইসলাম, শেখ শাহিনুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।
দুর্নীতি দমন কমিশন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।