শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় রশিকনগর দাখিল মাদ্রাসায় অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সমাবেশে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী হওয়া, বাড়িতে নিয়মিত পড়াশোনা এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে অভিভাবকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এবারের দাখিল পরীক্ষায় রশিকনগর দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। প্রত্যাশিত ফলাফল না হওয়ায় শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ফলাফল উন্নত করতে শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন দীঘিনালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজ ভূঁইয়া। মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার সুপার আজিজুল হক, সহকারী সুপার আনিসুর রহমান, সহকারী মৌলভী জহিরুল ইসলাম, হাদিস শিক্ষক মহিবুল্লাহসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজ ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু শিক্ষকদের ভূমিকা যথেষ্ট নয়; শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—তিন পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। শিক্ষকরা নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন। দিনের বাকি সময় শিক্ষার্থীরা পরিবারের পরিবেশে থাকে। তাই সন্তান নিয়মিত পড়াশোনা করছে কি না, সময়মতো মাদ্রাসায় যাচ্ছে কি না এবং পড়াশোনায় কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ হালিম বলেন, রশিকনগর দাখিল মাদ্রাসা দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষাদান করে আসছে। তবে এবারের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। মাদ্রাসার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সুনাম ধরে রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই অভিভাবকদের সন্তানদের মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট সময় ও অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে।
মাদ্রাসার সুপার আজিজুল হক বলেন, এবারের দাখিল পরীক্ষায় দীঘিনালা উপজেলার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। রশিকনগর দাখিল মাদ্রাসাও এর ব্যতিক্রম নয়। শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের আরও কার্যকর ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিভাবক জামাল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও আরও সচেতন হতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত না হলে দ্রুত অভিভাবকদের জানানো প্রয়োজন। এতে সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
সমাবেশে অভিভাবকরা শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, বাড়িতে পড়াশোনার প্রতি নজরদারি বৃদ্ধি এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ফলাফল উন্নত করতে এ ধরনের অভিভাবক সমাবেশ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।