প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর যে দ্বিপাক্ষিক ভারত সফরের আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন, সেটিও এখনো বহাল রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং সেই আমন্ত্রণ এখনো কার্যকর রয়েছে।
ব্রিকস সম্মেলন প্রসঙ্গে রণধীর জয়সওয়াল জানান, বর্তমান বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য পৃথকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আয়োজন। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। সেখানে যেসব মতামত প্রকাশ করা হবে, সেগুলোরও সরকার কোনো অনুমোদন বা সমর্থন দেয় না।’
উল্লেখ্য, চলতি বছর ভারত ব্রিকসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন। সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে সদস্যভুক্ত নয় এমন দেশ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ বিমসটেকের চেয়ারম্যান দেশ হওয়ায় সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ আমন্ত্রণ পেয়েছেন। সম্মেলনে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকের সুযোগ থাকে। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।