প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।
জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সফরকালে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন অধিবেশন ও বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত একটি নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের বিষয়টি জাতিসংঘে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে বাংলাদেশ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতে অনুদানভিত্তিক বা ‘গ্র্যান্টভিত্তিক’ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স কাঠামোর পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ।
পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় দেশের অভ্যন্তরে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচিও বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ, খাল খনন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ।
সাইমুম পারভেজ বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে চায় সরকার।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের বিষয়টিও বাংলাদেশের এবারের জাতিসংঘ কার্যক্রমে গুরুত্ব পাবে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি উচ্চপর্যায়ের আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।