দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট দূর করতে বর্তমান সরকার বাজেটে অধিক বরাদ্দ রেখেছে। জনবলের অভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্মিত ২৫০ শয্যার হাসপাতালগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সংকট কাটাতে দ্রুত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হলরুমে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের বিভিন্ন খাতের মতো স্বাস্থ্য খাতেও অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অবহেলা ছিল। এসব সমস্যা দূর করে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ১২৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। হাসপাতালের সেবার মান বাড়াতে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতায় আরও ৫০ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য কমানো, ট্রলির নামে অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধ, কর্মীদের নির্ধারিত পোশাক ও পরিচয়পত্র নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে হাসপাতাল চত্বরে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এছাড়া নার্সদের রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
লাশ পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে হাসপাতালভিত্তিক তালিকাভুক্ত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা চালু করা হবে। নির্ধারিত মাইলেজ অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ এবং চালানের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।
অনুষ্ঠানে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে মন্ত্রী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টার বৈঠক করেন। পরে হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করে রোগীদের খোঁজখবর নেন। বিকেলে তিনি রংপুর নগরীর জিয়া খাল ও কেডি খাল পরিদর্শন করেন।