শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ রোপণের স্মৃতিচারণ করে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ুর ভারসাম্য বজায় রাখতে দেশবাসীকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দেশের ২৯ হাজারের বেশি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, আজ আরাফাতের ময়দানে অসংখ্য নিমগাছ দেখা গেলেও কয়েক দশক আগে সেখানে কোনো গাছ ছিল না। ১৯৭৮ সালে ওমরাহ পালনকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিষয়টি লক্ষ্য করে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং বাংলাদেশ থেকে এক লাখ নিমগাছের চারা পাঠানোর উদ্যোগ নেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পরে সেই চারা থেকে কলম তৈরি করে লাখ লাখ নিমগাছ রোপণ করা হয়। বর্তমানে আরাফাতের বিস্তীর্ণ এলাকায় এসব গাছ ছায়া দিচ্ছে এবং সৌদি আরবের অনেক মানুষ এগুলোকে ‘জিয়া ট্রি’ নামেও চেনে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনে যত বছর বাঁচবে, প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। গাছ বড় হলে সেটিকে নিজের বন্ধুর মতো মনে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদেরও শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন স্পষ্ট। আগে বর্ষাকালে টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হলেও এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং তাপমাত্রা বাড়ছে। তাই পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে প্রতি বর্ষা মৌসুমে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, দেশে যত বেশি গাছ হবে, পরিবেশ তত শীতল ও বাসযোগ্য হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ উদ্যোগের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট ৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।