বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

গলাচিপায় ব্রিজের এপ্রোচ সড়কে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া বাজারে ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজের এপ্রোচ সড়কের কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণকাজ চলায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এদিকে কাজ বন্ধে গণঅধিকার পরিষদের নেতা পরিচয়ে এক ব্যক্তি বাধা দিলেও একই সংগঠনের নেতা পরিচয়ে অন্য এক ব্যক্তি নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার […]

গলাচিপায় ব্রিজের এপ্রোচ সড়কে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:১৯

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া বাজারে ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রিজের এপ্রোচ সড়কের কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ইট দিয়ে নির্মাণকাজ চলায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এদিকে কাজ বন্ধে গণঅধিকার পরিষদের নেতা পরিচয়ে এক ব্যক্তি বাধা দিলেও একই সংগঠনের নেতা পরিচয়ে অন্য এক ব্যক্তি নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে গজালিয়া বাজারে ব্রিজের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। এ কারণে কাজ বন্ধের জন্য

গণঅধিকার পরিষদের গজালিয়া ইউনিয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আল মামুন বাধা দেন। অন্যদিকে কবির হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি গণঅধিকার পরিষদের নেতা পরিচয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কবির হোসেন প্রথমে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে কাজ বন্ধ করেছিলেন। পরে তার নির্দেশেই আবার নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ শুরু হয়। এরপর হাসান আল মামুন এসে পুনরায় কাজে বাধা দেন।

এক পক্ষের বাধায় কাজ বন্ধ এবং অন্য পক্ষের নির্দেশে কাজ চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে কাজ বন্ধ ও চালুর বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে কবির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এলজিইডি সূত্রে জা২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫১ মিটার ব্রিজ ও এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় পটুয়াখালীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মহিউদ্দিন আহমেদ। ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী ছিল। সম্প্রতি এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রলারযোগে ইট এনে প্রকল্প এলাকায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে এবং সেগুলো দিয়ে সড়কের নির্মাণকাজ চলছে। ব্রিজের এক পাশে এপ্রোচ সড়কের পাশেই রয়েছে বড় একটি ডোবা। সেখানে সড়কের নিরাপত্তার জন্য কোনো গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হয়নি। গাছের ডাল দিয়ে কোনো রকমে রাস্তার মাটি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেও নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের অভিযোগ, কাজ চলাকালে এলজিইডির কোনো প্রতিনিধি বা প্রকৌশলীকে নিয়মিতভাবে প্রকল্প এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। ফলে নির্মাণকাজের মান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের গজালিয়া ইউনিয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আল মামুন বলেন, “আমরা স্থানীয় জনগণ হিসেবে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করায় বাধা দিয়েছি। রাস্তায় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা যাবে না। কেউ গণঅধিকার পরিষদের নেতা পরিচয়ে নিম্নমানের কাজ চালানোর নির্দেশ দিলে সেটা মানা হবে না। আর কবির হোসেনের কোনো পদ-পজিশন নেই। তিনি একবার বাধা দিয়ে এখন কেন কাজ চালাতে বলছেন, তা জানি না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে কবির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নাদিম বলেন, “কিছু ইট নিম্নমানের রয়েছে। সেগুলো ভালো ইটের সঙ্গে মিশিয়ে কাজ হচ্ছে। প্রায় ৩০ শতাংশ ইট খারাপ হতে পারে, বাকি ইট ভালো।” তিনি জানান, কাজ বন্ধের বিষয়টি বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কাজ বন্ধের জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী রিপন দাস বলেন, “নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে আমরা কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু ঠিকাদারের ম্যানেজার কথা শুনছেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাস্তা থেকে নিম্নমানের ইট সরাতে ঠিকাদারকে বাধ্য করা হবে।”

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের মান যাচাই, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ এবং প্রকল্পের নির্ধারিত নকশা ও মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।না গেছে, ডিপ-২ প্রকল্পের আওতায়

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।