নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার মদনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক নরী সহকারী শিক্ষিক কে চড়-থাপ্পড় দিয়ে ঘাড় ধরে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ জিয়াউল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল আজম স্বাক্ষরিত এক নোটিশে তাকে সাময়িক দরখাস্ত করা হয়।
এর আগে ৬ আগস্ট জোৎনা আক্তার নামে এক সহকারি শিক্ষক মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় ভারপ্রাপ্তর প্রধান শিক্ষক তাকে চড় থাপ্পড় দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেন। এ বিষয়ে অভিযোগ করা হলে ৯আগস্ট তদন্ত কমিটি বিষয়টি সারেজমিন পরিদর্শন করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট মোবাইল ফোন রিসিভ না করাকে কেন্দ্র করে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জোৎস্না আক্তারের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হকের বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষক কে তিনি চড়-থাপ্পড় মারেন এবং ঘাড় ধরে টেনে-হিঁচড়ে বিদ্যালয়ের বাইরে বের করে দেন। ঘটনার পর উভয়ের লিখিত অভিযোগ পেয়ে ৯আগস্ট তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ের সরেজমিনে তদন্ত করেন। শিক্ষিকাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।
বরখাস্ত নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ‘সরকারি চাকরি বিধি ২০১৮’ এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী আজ(১৩ আগস্ট) নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আজম
স্বাক্ষরিত আদেশে মোঃ জিয়াউল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আদেশে বলা হয়, বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতা পাবেন এবং এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হকের নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল আজম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটির তদন্তে প্রমাণিত হয়। বিধি অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিউল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।