নাটোরের গুরুদাসপুরে একের পর এক গরু চুরির ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। এবার গভীর রাতে গোয়ালঘরের তালা ও লোহার শিকল কেটে তিনটি গরু চুরির অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের দক্ষিণ নারীবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া গরুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা বলে জানিয়েছেন মালিক মাহাতাব উদ্দিন।
মাহাতাব উদ্দিনের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাত সোয়া দুইটার দিকে বাড়ির পূর্ব পাশে গোয়ালঘরে তিনটি গরু রেখে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। রাত পৌনে চারটার দিকে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘরের কাছে গিয়ে দেখতে পান, দরজার তালা, তারের নেট ও লোহার শিকল কাটা। পরে গোয়ালঘরের ভেতরে গিয়ে দেখেন, সেখানে রাখা তিনটি গরু নেই।
মাহাতাব উদ্দিনের অভিযোগ, রাতের নিস্তব্ধতার সুযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা গোয়ালঘরের তালা ও লোহার শিকল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে তিনটি গরু নিয়ে যায়। পরে গোয়ালঘরের ভেতরে একটি কাঁচি পড়ে থাকতে দেখা যায়।
চুরি হওয়া গরুর মধ্যে দুটি গাভি ও একটি বকনা রয়েছে। একটি গাভির গায়ের রং লালচে-কালো, অন্যটির শরীর সাদা-কালো ছোপছোপ। বকনাটির শরীরেও সাদা-কালো দাগ রয়েছে। মালিকের দাবি, তিনটি গরুর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এলাকায় গরু চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। অনেক পরিবারের কাছে গরু তাদের সঞ্চয় ও জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চুরির ঘটনায় কেউ কেউ সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, একের পর এক গরু চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় পুলিশের ওপর তাঁদের আস্থা কমে যাচ্ছে। গরু চুরি বন্ধে নিয়মিত টহল জোরদার, চোর চক্র শনাক্ত এবং চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এর আগে গত ২১ এপ্রিল রাতে গুরুদাসপুর পৌর সদরের আনন্দনগর এলাকায় এক রাতেই ছয়টি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময়ে গরু চুরির একাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সর্বশেষ তিনটি গরু চুরির ঘটনায় পুরোনো সেই আতঙ্ক আবারও দেখা দিয়েছে।
গুরুদাসপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম রিয়াজুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।