প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে এবং কোনোভাবেই তা বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে যারা জনকল্যাণমূলক বাজেটকে গণবিরোধী বলে আখ্যা দেন, তারা প্রকৃত অর্থে জনগণের বন্ধু হতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব চা-বাগান এলাকার নারী শ্রমিকদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে সরকারের প্রধান লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রীমঙ্গলে ইতোমধ্যে ১৫০ জন চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তানকে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী এক বছরের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ধাপে ধাপে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।
বাজেট নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন, সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং কল্যাণমূলক কর্মসূচি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রণীত বাজেটকে কিছু রাজনৈতিক দল গণবিরোধী বলে অভিহিত করছে। তার মতে, জনগণকেন্দ্রিক বাজেটকে যারা জনবিরোধী বলে প্রচার করে, তারা জনগণের প্রকৃত স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে না।
তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় জনগণের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের মানুষ যখনই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। জনগণের শক্তিই বিএনপির মূল শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ ও স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অর্থপাচারের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বর্তমান সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড বরদাশত করবে না। যারা অবৈধভাবে অর্থ বিদেশে পাচারের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যবহৃত হবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।