সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

হুজুর সম্বোধন কাদের জন্য প্রযোজ্য?

মুসলিম সমাজে সাধারণত আলেম-উলামা ও পীর-মাশায়েখদের সম্মান প্রদর্শনের জন্য ‘হুজুর’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। বাংলা ভাষায় যেমন ‘জনাব’ বা ‘মহাশয়’ সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তেমনি ফার্সি, উর্দু ও বাংলায় ‘হুজুর’ শব্দটি একটি সম্মানজনক উপাধি। তবে অনেকেই হুজুর শব্দের সঠিক অর্থ জানেন না, যার ফলে বিভিন্ন ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়। কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন […]

নিউজ ডেস্ক

১৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৩:১৪

মুসলিম সমাজে সাধারণত আলেম-উলামা ও পীর-মাশায়েখদের সম্মান প্রদর্শনের জন্য ‘হুজুর’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। বাংলা ভাষায় যেমন ‘জনাব’ বা ‘মহাশয়’ সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তেমনি ফার্সি, উর্দু ও বাংলায় ‘হুজুর’ শব্দটি একটি সম্মানজনক উপাধি। তবে অনেকেই হুজুর শব্দের সঠিক অর্থ জানেন না, যার ফলে বিভিন্ন ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়।

কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন যে, ‘হুজুর’ শব্দটি শুধুমাত্র আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য প্রযোজ্য এবং অন্য কারও ক্ষেত্রে এটা ব্যবহার করা ঠিক নয়। তারা মনে করেন, হুজুর একমাত্র নবীর জন্যই সম্মানসূচক শব্দ। কিন্তু এটা একটি ভুল ধারণা মাত্র।

হুজুর শব্দের মূল অর্থ হল ‘উপস্থিতি’ বা ‘জনাব’ যা সম্মান প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা হয়। ঠিক যেমন ‘স্যার’ শব্দটি সম্মানার্থে ব্যবহৃত হয়, তেমনি আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখ, এমনকি ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের ক্ষেত্রেও এই শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে কিছু দুষ্ট লোক নানা সময়ে অন্যদের তাচ্ছিল্যের সুরে ‘হুজুর’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ করে, যারা সুন্নত অনুযায়ী পোশাক পরিধান করে এবং নববী আর্দশে চলার চেষ্টা করেন, তাদেরকে ঠাট্টা করে ‘হুজুর’ বলে সম্বোধন করা হয়।

এই ধরনের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। ইসলাম মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে শিখায়, এবং কোনো ধর্মপ্রাণ মুসলিমকে উপহাস বা তাচ্ছিল্য করার কাজ কখনোই উচিত নয়।

আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! কোনো সম্প্রদায় যেন অন্যকোনো সম্প্রদায়কে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর কোনো নারীও যেন অন্য নারীকে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের চেয়ে উত্তম।

আর তোমরা একে অপরের নিন্দা করো না এবং তোমরা একে অপরকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নাম কতই না নিকৃষ্ট! আর যারা তওবা করে না, তারাই তো জালেম’। (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১১)

এ আয়াতে স্পষ্ট  করে বলা হয়েছে, মুসলমানদের উচিত একে অপরকে সম্মান দেখানো, এবং কেবলমাত্র ঈমানের পথে চলা ব্যক্তিকে তাচ্ছিল্য বা উপহাস করার কথা চিন্তা কখন না করা।

কারণ, ‘হুজুর’ শব্দটি ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার করা হয়, এবং এই শব্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের প্রত্যেকের উচিত, আল্লাহর বিধান অনুযায়ী একে অপরকে সম্মান করা, এবং কখনোই কাউকে তার ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত কারণে উপহাস বা তাচ্ছিল্য করা উচিত নয়।

আল্লাহ তায়ালা আমদেরকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন । আমিন ।

ইসলাম ও জীবন

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের মূল দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসলমান ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন করছেন। ফজরের পর থেকেই গোটা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে […]

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান

নিউজ ডেস্ক

২৬ মে ২০২৬, ০৯:২৬

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের মূল দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আত্মশুদ্ধি, পাপমুক্তি ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসলমান ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ পবিত্র হজ পালন করছেন।

ফজরের পর থেকেই গোটা বিশ্বের ২০ লাখের বেশি মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে সমবেত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারেরও বেশি।

আজ ৯ জিলহজ, হজের মূল দিন। হাজিরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের বিশাল এই সমতল ভূমি আজ সাদা এহরামে আচ্ছাদিত লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এক অনন্য দৃশ্যে পরিণত হয়েছে।

হাজিরা এখানে অবস্থান করে জিকির-আজকার, দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটাবেন। একই সঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন এবং হজের খুতবা শুনবেন। এ বছর আরাফাতের মসজিদে নামিরায় হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করে রাতযাপন করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপের জন্য কংকর সংগ্রহ করবেন সেখান থেকেই।

পরদিন ১০ জিলহজ মিনায় গিয়ে হাজিদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন এবং তাওয়াফে জিয়ারত।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, মহান আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) তার প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে কোরবানি করতে গেলে শয়তান তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তখন ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। সেই ঘটনার স্মরণেই হাজিরা জামরাতে প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেন।

হজের শেষ পর্বে হাজিরারা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করবেন। এর মাধ্যমেই শেষ হবে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

এদিকে গতকাল সারাদিন ও রাত হাজিরা মিনায় অবস্থান করেন। লাখ লাখ তাঁবুর শহরে পরিণত হওয়া মিনায় তারা নামাজ, দোয়া ও ইবাদতে সময় কাটান।

পবিত্র হজ উপলক্ষে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফাসহ আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার। মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

তীব্র গরমের মধ্যেও হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা ও আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, ড্রোন ক্যামেরা এবং তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে এবারের হজ ব্যবস্থাপনায়।

ইসলাম ও জীবন

মিনায় পৌঁছেছেন হজযাত্রীরা, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা আজ শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সৌদি আরবে আসা হাজিরা নিজেদের প্রস্তুত করছেন। রোববার (২৪ মে) এশার নামাজের পর হাজিরা তাবুর শহর হিসেবে পরিচিত মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। মিনায় যাওয়ার আগে তারা ইহরামের কাপড় পরিধান করেন। শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, হাজিরা ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ফজর থেকে এশা […]

মিনায় পৌঁছেছেন হজযাত্রীরা, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ

মিনায় পৌঁছেছেন হজযাত্রীরা, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ১০:১০

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা আজ শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সৌদি আরবে আসা হাজিরা নিজেদের প্রস্তুত করছেন। রোববার (২৪ মে) এশার নামাজের পর হাজিরা তাবুর শহর হিসেবে পরিচিত মিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। মিনায় যাওয়ার আগে তারা ইহরামের কাপড় পরিধান করেন।

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, হাজিরা ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ফজর থেকে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। মিনায় রাত্রিযাপনের পর ৯ জিলহজ মঙ্গলবার তারা আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি।

খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতে অবস্থান করবেন। পরে ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায়ের পর উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাত কাটাবেন।

পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে হাজিরা মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরে যাবেন এবং বড় জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কুরবানি দেবেন এবং মাথা মুণ্ডন অথবা চুল ছোট করবেন।

১১ ও ১২ জিলহজ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগেই হাজিরা মিনা ত্যাগ করবেন।

চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৬ লাখ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ হজ পালনের জন্য সৌদি আরব গেছেন।

হজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি প্রশাসন। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মনসুর বিন নাসের আল-ফায়েজ পবিত্র স্থানগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী বাহিনীর কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, হাজিদের সেবায় নিরাপত্তা বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সেবামূলক সংস্থার মধ্যে ভালো সমন্বয় রয়েছে। এর ফলে হাজিরা স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গে হজের ইবাদত পালন করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে মোট ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩২০ জন মুসলিম হজ পালন করেছিলেন। এর মধ্যে সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসা হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৫ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ জন। এ বছর হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়ায় এবারের হজ আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।