আবু তাহের,ক্যাম্পাস সংবাদদাতা, জাককানইবি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৪তম রবীন্দ্র ও ৪৯তম নজরুল মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলার কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম – দুজনই স্থান, কাল ও পাত্রকে অতিক্রম করেছেন। রবীন্দ্রনাথ পারিবারিক সাহচর্য পেলেও নজরুল তা পাননি। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন সংগ্রামী।
জীবনের নানা ধরণের কাজে যুক্ত ছিলেন—সৈনিক, সাংবাদিক, গীতিকার, সুরকার, চিত্রশিল্পী, কবি, সাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক হিসেবে। দুই কবিরই গান, কবিতা ও উপন্যাস আমাদের চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে। আমার বিশ্বাস, শুধু রবীন্দ্রনাথই নন, নজরুলও একজন বিশ্বকবি।’
সভায় রবীন্দ্র বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আজম। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন উদারনৈতিক মানবতাবাদী কবি এবং একজন অ্যাক্টিভিস্ট। তিনি প্রতিটি যুগে নতুনভাবে জেগে ওঠেন। তাঁর সৃষ্টিকর্ম চিরন্তন; তাই তাঁকে আমরা জীবিত রূপেই চর্চা করবো।’
নজরুল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মো. জেহাদ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন ভারতবর্ষে নজরুলের আবির্ভাব ছিল প্রদীপের মতো। তিনি ছিলেন পরাধীন দেশের স্বাধীন কবি। মৃত্যুকে তুচ্ছ করে বিদ্রোহ করেছিলেন। তাঁকে ধারণ করতে পারলে আমরা সমৃদ্ধ হবো।’
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী এবং কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্য রাখেন রবীন্দ্র-নজরুল মৃত্যুবার্ষিকী উদ্যাপন কমিটির সভাপতি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক মো. জিল্লাল হোসাইন।
আলোচনা সভা শেষে ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ কর্তৃক ২০২৩–২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় কিস্তির গবেষণা অনুদানের চেক গবেষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। নজরুলের জীবন ও কর্মভিত্তিক গবেষণা প্রকল্পের জন্য মোট ৩৭ জন শিক্ষার্থী গবেষককে প্রত্যেককে ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা প্রদান করা হয়।