তারাকান্দা উপজেলা (ময়মনসিংহ) :
শিক্ষা হলো সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র যা আপনি পৃথিবী পরিবর্তন করতে ব্যবহার করতে পারেন।
~ নেলসন ম্যান্ডেলা
স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় এগুলো শুধু ভবন নয়,এগুলো হাজারো স্বপ্ন, গল্প আর স্মৃতির আঁকড়া।_সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে যখন শুরু হয় রাজনীতি,চরম দুর্নীতি, লুটপাটসহ নানান নেতিবাচক চিন্তা চেতনা ভাবনার স্থান তখন জাতি হয়ে পড়ে মেরুদণ্ডহীন ছাত্রছাত্রী হারায় তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ।
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হোসনে আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক অনিয়ম, কলেজের সম্পত্তি বিক্রয় ও শিক্ষক বহিষ্কারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ ৪২ জনের একটি প্রতিবাদী স্টাফ। তারা জানান সত্যের জয়ের
মধ্যে দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান আলো ছড়াবে এটা আমাদের বিশ্বাস।
সোমবার (১১ মে ২০২৬) বেলা ২টায় কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, বর্তমান অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে কলেজের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি থাকা সত্ত্বেও কলেজের ৮ শতাংশ মূল্যবান জমি এবং জেলা পরিষদ কর্তৃক নির্মিত তিনতলা ভবনসহ প্রায় ১ একর ৪২ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল ও বিক্রয়ের চেষ্টা করা হয়েছে।
এছাড়া কোনো তদন্ত বা কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই দুইজন শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত ও বেআইনি বলে দাবি করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, কলেজের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে শিক্ষকদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি ও ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
শিক্ষকরা বলেন, স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা তাদের সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করছে।
কলেজ শিক্ষকরা লিখিত বক্তব্যে জানান, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তির নিজস্ব সম্পত্তি নয়। শিক্ষকদের অপমান ও ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
শিক্ষকদের দাবির মধ্যে রয়েছে— অবৈধভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষকদের পুনর্বহাল, কলেজের জমি ও ভবন সংক্রান্ত মামলা প্রত্যাহারসহ দখল বুঝিয়ে দেওয়া, সকল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিয়মিত অডিট নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্নকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সাদিয়া খাঁন, মুর্শিদা বানু, জান্নাতুল নাসরিন ও জেসমিন আক্তার। এ সময় আলমগীর হোসেন, কামরুল ইসলাম, হাসান তালুকদারসহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষক ও সচেতন ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।