মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ‘আপর কাঠি উম্মুল কুরা সিরাজুল ইসলাম মহিলা মাদ্রাসা’র ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে প্রতারণামূলকভাবে বিয়ে ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক মাওলানা দেলোয়ারকে (৬৫) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার (১৩ মে) বিকাল ৫টার দিকে মুন্সিগঞ্জ আমলী আদালত-৪ এর বিচারক আশিকুর রহমান এ নির্দেশ প্রদান করেন। এর আগে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে টঙ্গীবাড়ী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মাওলানা দেলোয়ার ওই মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বিয়ে করেন। এরপর মাদ্রাসার ভেতরেই আটকে রেখে দীর্ঘদিন ধরে ওই শিশুর ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তিনি। নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে শিশুটি তার খালাকে বিষয়টি জানালে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার বিকেলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর খালু মনির হোসেন খান জানান, গত ২৪ জানুয়ারি বোর্ডের পরীক্ষার কথা বলে মাওলানা দেলোয়ার ওই ছাত্রীসহ আরও দুইজনকে সোনারং মাদ্রাসায় নিয়ে যান। সেখানে অন্য দুই ছাত্রীকে পুরস্কার পছন্দ করার জন্য বাজারে পাঠিয়ে দিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে কৌশলে বড়লিয়া এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরও দুজন মাদ্রাসা শিক্ষকের সহায়তায় ভয়-ভীতি দেখিয়ে কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা কাবিন ছাড়াই তথাকথিত ‘সরা-কাবিন’ এর মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করেন ওই বৃদ্ধ শিক্ষক। এরপর থেকে মাদ্রাসায় রেখেই শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাওলানা দেলোয়ার বিয়ের কথা স্বীকার করলেও কোনো বৈধ প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তিনি জানান, মেয়ের বয়স না হওয়ায় তিনি কেবল ‘সরা’ করে বিয়ে করেছেন এবং বয়স হলে কাবিন রেজিস্ট্রি করার পরিকল্পনা ছিল। তবে নিজের নাতনি বয়সী এবং নিজের ছাত্রীকে কেন বিয়ে করলেন—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। স্থানীয়দের দাবি, ইতিপূর্বেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছিল।
টঙ্গীবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) কাজী মাসুদ রানা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।