শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

সড়ক নির্মাণে অনিয়ম কাজ বন্ধ বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ চালানো হচ্ছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌড় গ্রামে।  স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশলীর […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ মে ২০২৬, ১৯:১০

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ চালানো হচ্ছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোড়দৌড় গ্রামে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরের যথাযথ তদারকির অভাবেই এসব অনিয়ম ঘটেছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর পাবনা ও বগুড়া জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর কাজ শুরু হয়। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তাঁরা। মাঝেমধ্যে কিছু অংশে ইট বিছানো হলেও পুরো সড়কটি চলাচলের উপযোগী ছিল না। সম্প্রতি পাকা সড়কের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু শুরু থেকেই নানা অনিয়ম দেখতে পেয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। 

ঘোড়দৌড় এলাকার বাসিন্দা শাকিল বলেন, “এটা আমাদের এলাকার প্রধান সড়ক। এই পথ দিয়েই মানুষ উপজেলা সদর ছাড়াও ধুনট ও শাহজাহানপুর উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু শুরু থেকেই ঠিকাদার অনিয়ম করছেন। সড়কের দুই পাশের কৃষিজমি কেটে মাটি এনে সড়কে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবাদ করেও কোনো ফল পাইনি।

একই এলাকার সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রায় দুই মাস ধরে কাজ চলছে। এখানে বিট বালি ব্যবহারের কথা থাকলেও গত রোববার বিভিন্ন স্থানে কাদামাটি ফেলা হয়। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। 

খবর পেয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরের লোকজন এলেও তাঁদের সঙ্গে স্থানীয়দের তর্কাতর্কি হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাঁরা চলে যান।” সড়ক খুঁড়ে রাখায় বর্তমানে চলাচলে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহনে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। 

মাগুড়ের তাইড় এলাকার কৃষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, “মাঠের ধান-ভুট্টা পেকে নষ্ট হচ্ছে। সড়কের কারণে সেগুলো বাড়িতে আনা যাচ্ছে না। একজন শ্রমিকের মজুরি এখন ১২০০ টাকা। তারা দুপুর পর্যন্ত কাজ করে চলে যায়। এই সময়ের মধ্যে ধান কাটব, নাকি মাথায় করে বাড়িতে আনব?” 

একই গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, “সড়কের কিছু অংশ আগে ইট দিয়ে বাঁধানো ছিল। ঠিকাদারের লোকজন সেই ইট তুলে খোয়া বানিয়েছে। সড়ক খুঁড়ে রাখায় এখন যান চলাচল বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা।” 

স্থানীয় বাসিন্দা চান মিয়া বলেন, “কয়েক দিন আগে ধান বাড়িতে আনতে আমাকে ১৫০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ করে অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়েছে।” ঘোড়দৌড় এলাকার বাবু মিয়া অভিযোগ করেন, সড়কের দুই পাশে থাকা পুকুর ও ডোবার স্থানে কোনো গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হয়নি। এতে কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

তবে কাজে অনিয়মের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করেছেন শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আসাফুদ্দৌলা বিপ্লব। তিনি বলেন, “লোকবল সংকটের কারণে কাজ যথাযথভাবে তদারকি করা সম্ভব হয় না। অভিযোগ পাওয়ার পর আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “কাজ শুরুর পর থেকে ঠিকাদারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজে কাজ না করে অন্য একজনকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে। এতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। আমরা ঠিকাদারের সাইট ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেছি।” বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের সাইট ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমেদ বলেন, “অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। খুব দ্রুত মানসম্পন্ন বালি ব্যবহার করে আবার কাজ শুরু করা হবে।”

 এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “সড়ক নির্মাণকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারও অবহেলা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।