বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

জুলাই বিপ্লব’ এ আহতদের নিয়ে পাটাতন কুবির আলোচনা সভা

কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন ‘পাটাতন’ এর উদ্দ্যোগে ‘জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ক্যাম্পাসের ভূমিকা’ প্রসঙ্গে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে সংগঠনটির সভাপতি মাসুম বিল্লাহ’র সঞ্চালনায় কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নাম্বার কক্ষে আলোচনা সভাটি শুরু হয়। এরপর আহত শিক্ষার্থীরা […]

নিউজ ডেস্ক

১১ ডিসেম্বর ২০২৪, ২৩:১২

কুবি প্রতিনিধি:
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন ‘পাটাতন’ এর উদ্দ্যোগে ‘জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ক্যাম্পাসের ভূমিকা’ প্রসঙ্গে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে সংগঠনটির সভাপতি মাসুম বিল্লাহ’র সঞ্চালনায় কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নাম্বার কক্ষে আলোচনা সভাটি শুরু হয়।
এরপর আহত শিক্ষার্থীরা জুলাই বিপ্লবের সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। আলোচনা শেষে আন্দোলনে আহত উপস্থিত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করেন ‘পাটাতন’।
উক্ত আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুতাসীম বিল্লাহ এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান। এছাড়া, জুলাই বিপ্লবে আহত শিক্ষার্থী জারা বিনতে শহীদের পিতা শংকুচাইল ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক শহীদুল ইসলামসহ জুলাই বিপ্লবে আহত অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘আজকে আমি প্রথমেই স্মরণ করছি শহীদ আব্দুল কাইয়ুমকে। এতো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদের উৎখাত করার পরও কেন আমরা ফ্যাসিবাদী চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে পারছি না? জুলাই বিপ্লবের পর জাতিকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়াটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আমরা ফ্যাসিবাদ শাসকদের তাড়িয়েছি কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া সিস্টেমকে বিতাড়িত করতে পারিনি। এই জায়গাটায় কাজ করা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মানে আমাদের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের যদি সমান অধিকার নিশ্চিত করতে পারি এবং এটা যদি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো থেকে শুরু করতে পারি তাহলে জুলাই অভ্যুত্থানের দেখা স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূচনা ঘটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপর পুলিশি হামলার মাধ্যমে। তারপর  ঢাকায় আমাদের বোনদের এবং শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের অশিক্ষিত টোকাইরা যখন হামলা করে, তা দেখে আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি নাই। আমরা তখন কোনকিছুর পরোয়া না করে আন্দোলনে নেমেছিলাম। কিন্তু এখন বর্তমান সময়ে সমন্বয়ক নিয়ে পলিটিক্স চলতেছে।
অনেকেই নিজেদের এখন সমন্বয়ক দাবী করছে। যখন আমরা অনেকে আন্দোলনের সময় আহত হয়েছিলাম, হাসপাতালে ছিলাম তখন তো এতো সমন্বয়ক দেখি নাই, গুটিকয়েকজন আহতদের খোঁজ খবর নিয়েছে। আমরা আসলে এই বাংলাদেশ দেখার জন্য আন্দোলন করি নাই।’
কুমিল্লা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শুভ  বলেন, ‘একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়ে আমাদের প্রথম দায়িত্ব ছিলো আন্দোলনে যোগ দেয়া। কারণ আমাদের এতো টাকা নেই যে আমরা টাকা দিয়ে বা কোন কোটায় চাকরি পাবো। তাই আমি এই বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেই প্রথম থেকেই ।
আন্দোলন চলাকালীন টমছম ব্রীজের কাছে গুলাগুলির সময় আমার চোখে গুলি লাগে এবং আমার এক চোখ হারাই৷ এখন অবধি আমার চোখের ৫ টি অপারেশন হয়েছে। আমার চোখের চিকিৎসার টাকা বহন করেন ছাত্রশিবির এবং ভাইয়েরা। তারপর ৫ আগষ্ট আমরা স্বাধীন হই।
কিন্তু এখনো চাচ্ছে অনেকে আমাদের মধ্যে ফাটল তৈরি করতে। আমরা সবাই এক থাকবো এবং দেশের কাজে আবারও একসাথে নামবো।’
আন্দোলনকারী জারার অভিভাবক (বাবা) বলেন, ‘আমরা হয়তো ধরেই নিয়েছিলাম যে আমরা আগামী ৪৫ সাল পর্যন্ত এই অন্ধকারচ্ছন্ন এবং হাসিনার স্বৈরাচারের কবল থেকে আমাদের রক্ষা হবে না। কিন্তু আমাদের সন্তানেরা এই স্বৈরাচারের কবল থেকে, বৈষম্য থেকে আমাদের জাতিকে উদ্ধার করেছে। এই আন্দোলনে আমার স্ত্রী সন্তানও যোগদান করেছিলো। আমার মেয়ে ভিক্টোরিয়াতে পড়ে, সেও জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রতিটি আন্দোলনে গিয়েছে।’
পাটাতনের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আজকে এই প্রোগ্রামের আয়োজন করার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটা জ্ঞানের রাজ্যে পরিনত করা। তাছাড়া জুলাই বিপ্লব শহিদ, আহত সবাইকে আরো একবার স্মরণ করা এবং তাদের এই চেতনাকে ধারণ করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিনির্মানে সহযোগিতা করা।’

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।