বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

কুবিতে প্রথম জাতীয় বিতর্ক উৎসবের পর্দা নামল

রাফি হোসেন, কুবি প্রতিনিধি: ‘যুক্তির বর্ণমালায় গ্রন্থিত হোক মুক্তির কবিতা’ প্রতিপাদ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ডিবেটিং সোসাইটি (সিওইউডিএস)-এর উদ্যোগে প্রথম জাতীয় বিতর্ক উৎসব ফাইনাল পর্বের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এতে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে স্কুল-কলেজ […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:২৩

রাফি হোসেন, কুবি প্রতিনিধি:

‘যুক্তির বর্ণমালায় গ্রন্থিত হোক মুক্তির কবিতা’ প্রতিপাদ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ডিবেটিং সোসাইটি (সিওইউডিএস)-এর উদ্যোগে প্রথম জাতীয় বিতর্ক উৎসব ফাইনাল পর্বের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এতে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে স্কুল-কলেজ পর্যায়ের ফাইনাল দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ফাইনাল বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

কুবি ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো. মুহসিন জামিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল হাকিম এবং সংগঠনের মডারেটর ও গনিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজ থেকে আগত বিতার্কিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে “অপরিকল্পিত নগরায়নই পরিবেশ দূষণের মূল কারণ” বিষয়ের উপর ফাইনাল বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এতে জয়লাভ করে ময়নামতি ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এ পর্বে শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হন একই প্রতিষ্ঠানের মারুফ হাসান।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির মধ্যে “এই সংসদ মনে করে যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বয়কট কালচার মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী” শীর্ষক বিষয়ের উপর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। এতে চ্যাম্পিয়ন হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক ও টুর্নামেন্ট সেরা নির্বাচিত হন একই দলের ইরফান অপূর্ব।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো: মুহসিন জামিল বলেন, আমরা প্রতিষ্ঠার বারো বছরে পদার্পন করলে ও এখন পর্যন্ত কোনো জাতীয় বিতর্ক উৎসব আয়োজন করতে পারিনি। কিন্তু এই বার সকলের প্রচেষ্টায় দেশের মোট ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় টিম এবং কুমিল্লা অঞ্চলের মোট ১০টি স্কুল-কলেজের সমন্বয়ে জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। আজকে ফাইনাল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর সমাপ্তি অধিবেশন হয়েছে। কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির এই জাতীয় বিতর্ক উৎসবের যাত্রা অদূর ভবিষ্যতে ও অব্যাহত রাখবে এবং এর মাধ্যমে কুমিল্লা ইউনিভার্সিটিতে নবীন শিক্ষার্থীদেরকে বিতার্কিক হিসেবে গড়ে তোলবে। তাদের জীবনের সৃজনশীলতা এবং ভবিষ্যতের উন্নতির জন্য কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি কাজ করবে।

মডারেটর ও গনিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো.আব্দুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, “মঞ্চে উপস্থিত প্রত্যেক অতিথিই প্রধান অতিথি হওয়ার যোগ্য তবুও আমাদের সীমাবদ্ধতার জন্য প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এই প্রোগ্রামটির আয়োজন করার ক্ষেত্রে ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের, আন্তরিক সহযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এবং স্পন্সর ও অন্যান্য সহযোগীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমরা প্রথমবারের মতো এই আয়োজনটি করেছি, আমাদের কোনো ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুবি কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “আমরা যখন বিশ্বিবদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করি তখন একটা চেয়ারও পাইনি, আমরা নিজেদের খরচে মার্কার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনেছি। তাই আমাদের সেই জায়গা থেকে একটি অনুভূতি কাজ করে। এরপর ৬ষ্ঠ ব্যাচ এসে ডিবেটিং সোসাইটি সহ আরো ক্লাব শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯টির মতো নিবন্ধিত সংগঠন হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিতর্কের মাধ্যমে আপনাদের উপস্থাপনা ও শব্দচয়ন এবং বিপক্ষ দলকে কীভাবে আঘাত করা যায় এর জন্য আপনারা অনেক পড়াশোনা এবং পরিশ্রম করেছেন। আপনারা এক একজন বড় হয়ে দেশের কল্যানে কাজ করবেন। আপনারা যারা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছেন সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাই।”

কুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘অনেকে ডিবেটিং সোসাইটিকে অন্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের মতো করলে ও আমি ভিন্ন মত পোষণ করি। এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন। ডিবেটিং যারা করে এরা বুদ্ধির চর্চা করে। অপজিশনের মতামতকে খন্ডন করার জন্য যথেষ্ট বুদ্ধি লাগে। সুতরাং এটি বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ কেবলমাত্র সাংস্কৃতিক কাজ নয় এটা বুদ্ধির পরীক্ষা। বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আউটকাম বেসইড এডুকেশনে দিক দিয়ে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে।এই সাফল্য অব্যাহত থাকুক।’

উল্লেখ্য, প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩২টি দল এবং স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের ১০ টি দল অংশগ্রহণ করে।

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।