শেকৃবি প্রতিনিধি
জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণ এবং তাদের হত্যার বিচারের দাবিতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) উদ্যোগে ‘SAU Run For Justice 2.0’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক এই দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. বেলাল হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. আরফান আলী, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. ফিরোজ মাহমুদ, টিএসসি পরিচালক প্রফেসর ড. আক্তার হোসেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ছাত্রী বিভাগে প্রথম হন কৃষি অনুষদের ২৪তম ব্যাচের নাতাশা জামান, দ্বিতীয় হন অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ২১তম ব্যাচের নাদিয়া এবং তৃতীয় হন এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২২তম ব্যাচের খাদিজা রুবাইয়াত। ছাত্র বিভাগে প্রথম হন এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২৪তম ব্যাচের হাবিবুর রহমান, দ্বিতীয় হন একই বিভাগের একই ব্যাচের মুক্ত হেমব্রম এবং তৃতীয় হন কৃষি অনুষদের ২২তম ব্যাচের এনায়েত।
আয়োজন সম্পর্কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেকৃবি শাখার আহ্বায়ক আসাদুল্লাহ নাঈম বলেন, “এটি আমাদের দ্বিতীয় বছরের ‘Run For Justice’ আয়োজন। জুলাইকে স্মরণীয় করে রাখতে অংশগ্রহণকারীদের জার্সির পেছনে শহীদদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া শহীদ ওসমান হাদীকে স্মরণে টিএসসির সামনের স্থানটির নাম ‘হাদী চত্বর’ রাখা হয়েছে। আমরা এই আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। ‘Run For Justice’-এর মাধ্যমে মূলত জুলাই শহীদদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”
কেন্দ্রীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান বলেন, “আপনারা বিচারের দাবিতে দৌড়েছেন। জার্সির পেছনে একেকজন শহীদের নাম লেখা রয়েছে। শহীদদের হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবসময় সোচ্চার থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব ছাত্র ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছে এবং গণহত্যার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, পাশাপাশি যেসব শিক্ষক এতে মদদ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বয়কটের দাবিতে সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে।”
সমাপনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. বেলাল হোসেন বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ের বিভীষিকাময় দিনগুলো আমরা যদি স্মরণে না রাখি, তাহলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। জুলাইয়ের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতেই হবে, অন্যথায় নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।”