রবিউল আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধি
মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল অপ্রিতম। বয়স সবে ১৩ বছর। সেই যে বাসা থেকে বের হয়েছিল,আর ফিরে আসেনি। সারারাত স্বজনদের উৎকণ্ঠা, খোঁজাখুঁজি আর অপেক্ষার পর অবশেষে মিলল তার সন্ধান—তবে জীবিত নয়,নিথর দেহ হয়ে। অপ্রিতম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র ছেলে।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রিতম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি সে। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা।
অপ্রিতম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ ও স্বজনেরা। তার সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করতে এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হয়।
অবশেষে আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি এলাকার একটি জঙ্গলের ভেতর থেকে অপ্রিতমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। যে বয়সে তার হাতে থাকার কথা ছিল বই, খেলাধুলা আর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা স্বপ্ন—সেই বয়সেই থেমে গেল অপ্রিতমের জীবন। একটি পরিবার হারাল তাদের একমাত্র আদরের সন্তানকে।
অপ্রিতমের মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে কুমিল্লায় শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।একটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ সমাজের প্রয়োজন। অপ্রিতমের মৃত্যু সেই নিরাপত্তা নিয়েই রেখে গেল গভীর প্রশ্ন—যার উত্তর খুঁজতে হবে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।