সেলিম রেজা, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বগুড়ার শেরপুর পৌর শহর এখন যানজটের কবলে স্থবির। শহরের প্রধান প্রধান মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দিনভর লেগেই থাকছে দীর্ঘ যানজট।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে অতিষ্ঠ পথচারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সড়ক নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই বললেই চলে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের ধুনট মোড়, বাসস্ট্যান্ড, উপজেলা পরিষদ গেট এবং কলেজ রোড এলাকায় যানজটের প্রকোপ সবচেয়ে তীব্র। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রতিদিন সহস্রাধিক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি ও ভটভটি পৌর এলাকায় প্রবেশ করছে।
নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যান্ড না থাকায় এসব যান মাঝসড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে বালুবাহী বিশালাকার ড্রাম ট্রাক ও ভারী পণ্যবাহী যানবাহন। ব্যস্ত সময়ে এসব ভারী যানবাহন শহরের সংকীর্ণ অংশে ঢুকে পড়ায় মুহূর্তে পুরো সড়ক অচল হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের প্রধান সড়কগুলোর দুই পাশের ফুটপাত দখল হয়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে নারী, শিশু ও প্রবীণদের চলন্ত যানবাহনের মধ্য দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে। সিএনজি ও ড্রাম ট্রাকের ফাঁক গলে পার হতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
শহরের ধুনট মোড়ের ব্যবসায়ী রতন মালাকার বলেন, “যানজটের কারণে শহরে স্বাভাবিক চলাফেরা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কাজের মূল্যবান সময় তো নষ্ট হচ্ছেই, বেচাকেনাতেও ধস নেমেছে। প্রতিনিয়ত জীবন হাতে নিয়ে সড়ক পার হতে হয়।”
পথচারী শাহ আলম বাবু আক্ষেপ করে বলেন, “শেরপুর শহরে ট্রাফিক পুলিশ আছে বলে মনে হয় না। ব্যস্ত মোড়গুলোতে যখন গাড়ির দীর্ঘ সারি থাকে, তখন পুলিশ সদস্যদের দেখা মেলে না। কার্যকর ব্যবস্থাপনা না থাকায় চালকরা যাকে ইচ্ছা সেভাবে গাড়ি থামাচ্ছে।”
সড়কে যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থার এমন গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শেরপুর ট্রাফিক ফাঁড়ির সার্জেন্ট রমজান আলী চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করেন। তিনি যানজটের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
সাংবাদিকের উপস্থিতি ও প্রশ্ন শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি রাগান্বিত স্বরে বলেন, “আপনারা যা পারেন লেখেন, সেটা আমি দেখে নেব!” একজন দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের উদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
যানজটের ভয়াবহতা নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “উপজেলার সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় শেরপুরের যানজট সমস্যাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নাগরিক ভোগান্তি কমাতে ও সড়ক সুশৃঙ্খল করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”