বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

তারুণ্যের ভাবনায় অমর একুশ

আবু তাহের, জাককানইবি একুশ মানে মুক্তি, একুশ মানে চেতনা। একুশ মানে বাংলাকে নিয়ে কোনো সমঝোতা না করে লড়াই করা। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির গর্বের দিন। সালাম, রফিক, শফিক, বরকত ও জব্বারের মতো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বাংলা পেয়েছিল রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি। তরুণ প্রজন্মের কাছে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি কী অর্থ বহন করে? একুশ নিয়ে তাদের ভাবনা কী? তারুণ্যের […]

তারুণ্যের ভাবনায় অমর একুশ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৩৯

আবু তাহের, জাককানইবি

একুশ মানে মুক্তি, একুশ মানে চেতনা। একুশ মানে বাংলাকে নিয়ে কোনো সমঝোতা না করে লড়াই করা। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির গর্বের দিন। সালাম, রফিক, শফিক, বরকত ও জব্বারের মতো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বাংলা পেয়েছিল রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি।

তরুণ প্রজন্মের কাছে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি কী অর্থ বহন করে? একুশ নিয়ে তাদের ভাবনা কী? তারুণ্যের ভাবনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন দৈনিক সকালে’র প্রতিনিধি আবু তাহের।

শিক্ষার্থী সেবিকা তালুকদার বলেন, ‘অমর একুশ কেবল একটি তারিখ নয়; এটি ভাষার অধিকার, আত্মপরিচয় এবং মুক্ত চিন্তার জন্য আত্মত্যাগের চেতনার প্রতীক।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের শক্তি যতই প্রবল হোক, মানুষের আত্মপরিচয়ের আকাঙ্ক্ষা তার চেয়ে শক্তিশালী। মাতৃভাষায় কথা বলা, লেখা ও ভাবা কেবল অভ্যাস নয়,

এটি অর্জিত অধিকার, যা শহীদদের ত্যাগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অমর একুশ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা মানে চিন্তার স্বাধীনতা রক্ষা করা, ন্যায় ও সঠিকের পক্ষে দাঁড়ানো মানে প্রকৃত নাগরিকত্বের প্রকাশ।

তাই একুশ আমাদের শিখিয়েছে—ভাষাকে ভালোবাসা, শুদ্ধভাবে চর্চা করা, বৈচিত্র্যকে সম্মান করা এবং এই চেতনাকে আগামীর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে জাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা আমাদের অন্যতম’

শিক্ষার্থী নাইম বলেন, ‘২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক গভীর অনুভূতির দিন। এই দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার জন্য যে তরুণরা জীবন দিয়েছিলেন,

তাদের ত্যাগ আমাদের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাঙ্গণে ভাষার দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা ছিল ন্যায় ও আত্মমর্যাদার সংগ্রাম। শহীদ সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বার-এর আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে—ভাষা শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি,

চিন্তা ও অস্তিত্বের ভিত্তি। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও স্বীকৃত, যা ঘোষণা করেছে UNESCO। এর মাধ্যমে সারা বিশ্বে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আমার মনে হয়, ভাষা দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য তখনই পূর্ণ হবে,

যখন আমরা নিজের ভাষাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করব, শুদ্ধভাবে লিখব ও বলব, এবং অন্যের মাতৃভাষাকেও সম্মান করব। বাংলা ভাষা আমাদের গর্ব, আমাদের পরিচয়। তাই ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলি—আমরা যেন বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি, লালন করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরি।’

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আমার কাছে শুধু ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, এটা আমাদের হৃদয়ের গভীরে গাঁথা এক অমলিন অনুভূতি।

এই দিনের ভেতরে আছে ভাষার জন্য ভালোবাসা, আত্মত্যাগ আর অদম্য সাহসের গল্প। নিজের মাতৃভাষাকে নিজের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বাঙালিকে রাজপথে নামতে হয়েছে,

বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে হয়েছে বুলেটের সামনে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের বাংলা ভাষার মর্যাদা। আজ আমরা যে ভাষায় স্বপ্ন দেখি, হাসি-কাঁদি,

মনের সব কথা প্রকাশ করি,সেই ভাষা আমাদের কাছে এসেছে শহিদদের ত্যাগের পথ ধরে। তাই একুশ মানে শুধু স্মৃতি নয়, একুশ মানে আত্মপরিচয়ের অহংকার, একুশ মানে বাঙালির চিরন্তন চেতনা।’

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী সারায়াত জামান বলেন, ‘অমর একুশ কেবল অতীতের কোনো স্মৃতি নয়; এটি ভাষা, পরিচয় ও আত্মসম্মানের প্রতীক। একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর দৃষ্টিতে একুশ মানে নিজের ভাষার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রেরণা।

১৯৫২ সালের আত্মত্যাগ আমাদের বাংলায় কথা বলার স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। সেই ত্যাগের প্রকৃত সম্মান তখনই রক্ষা হবে, যখন আমরা আনুষ্ঠানিক স্মরণের বাইরে গিয়ে প্রতিদিনের জীবন, চিন্তা ও আচরণে ভাষার মর্যাদা বজায় রাখবো।’

শিক্ষার্থী তাসকেরাতুন নূর বর্না বলেন, ‘বাঙালি জাতি বীরের জাতি, যার অন্যতম সৃষ্টি মহান একুশ। একুশ—একটি চেতনা, একটি বৈশ্বিক প্রতীক এবং ভাষাগত অধিকার প্রতিষ্ঠার মহাবিস্ফোরণ।

১৯৪৭-পরবর্তী পাকিস্তানি রাষ্ট্রকাঠামো উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রচেষ্টায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষার অধিকার অস্বীকার করে। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে সংগঠিত আন্দোলন,

যা ১৯৫২ সালে চূড়ান্ত রূপ নেয়। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হলে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিতে গড়ে ওঠে শহীদ মিনার এবং প্রতিবছর পালন করা হয় শহীদ দিবস। একুশে ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগ বাঙালিকে তার ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেছে এবং পরবর্তী সকল আন্দোলনের প্রেরণা জুগিয়েছে। এই একুশের চেতনা আজও বাঙালি জাতির মনে অবিনাশী শক্তি হয়ে গ্রথিত আছে।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান লেলিন বলেন, ‘২১ সংখ্যাটা তেমন বড় না হলেও আমার কাছে এই সংখ্যার ভার অনেক বেশি। কারণ এই একুশ ছিল বলেই হয়তো আজ আমি, আমরা—নিজেদের জানতে,

চিনতে এবং নিজেদের মতো করে আবিষ্কার করতে পারছি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যে বিষয়টির উন্মেষ ঘটেছিল,

তা হলো বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা এবং নিজের জাতিসত্তার প্রতি দায়বদ্ধতা। পরবর্তীতে সেটিই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ হিসেবে অঙ্কুরিত হয়েছে। আমি যেহেতু নৃবিজ্ঞানের ছাত্র,

তাই আমার জায়গা থেকে বললে বলতে হয়—ভাষা শুধু ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়; ভাষা আমাদের বাস্তবতা ও চিন্তার জগত বিনির্মাণের অন্যতম হাতিয়ার (স্যাপির–উরফ তত্ত্ব অনুযায়ী)।

আরেকটু বৈজ্ঞানিকভাবে বললে, ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মস্তিষ্কে নিউরনের গঠনচিত্রও ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। যদি ২১ না থাকত, তবে আমরা আমাদের চিন্তা ও ভাবনার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলতাম।

২১ ছিল বলেই আমরা নিজেদের জানতে, চিনতে এবং নিজেদের পরিবেশ-প্রতিবেশকে নিজের মতো করে জানতে পারছি। একুশ ছিল বলেই এত সহজ ও সাবলীল চিন্তার খেলায় মেতে উঠতে পারি আমরা—

জীবনানন্দের রূপসী বাংলা, জসিমউদ্দীনের নকশীকাঁথা কিংবা নজরুলের বিদ্রোহী সত্তাকে ধারণ করতে পারি নিজের মধ্যে। আমাদের জীবনবোধের যে অনন্যতা ও স্বকীয়তা, সেটাও কিন্তু একুশেরই অবদান। যেমনটা আগেই বলেছি, ২১ শুধু ভাষার স্বাধীনতার স্বাদই দেয়নি;

২১ আমাদের ভেতরের স্বাধীনচেতা সত্তাকে জাতীয়তাবাদের রূপে জাগ্রত করেছে, আমাদের প্রস্তুত করেছে নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনের লড়াইয়ের জন্য। আর তাই তো—একুশ আমার অস্তিত্ব, একুশ আমার শেকড়।’

শিক্ষাঙ্গন

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে শেকৃবির সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার

শেকৃবি প্রতিনিধি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার আলম। নবগঠিত কমিটিতে তাকে কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ২২:৪৮

শেকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাবেক শিক্ষার্থী কৃষিবিদ সানোয়ার আলম। নবগঠিত কমিটিতে তাকে কেন্দ্রীয় কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়। কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কৃষিবিদ সানোয়ার আলম সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে তার ভূমিকা রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

নেতাকর্মীরা জানান, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মনিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে তিনি যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার পাশাপাশি কৃষি ও কৃষক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

এদিকে যুবদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।

শিক্ষাঙ্গন

অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে বড় পরিবর্তন, এইচএসসি পরীক্ষাও হবে ডিসেম্বরে

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে কারিকুলামও। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনজানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হতে পারে। বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে […]

নিউজ ডেস্ক

০২ মে ২০২৬, ১৬:০০

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে কারিকুলামও। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনজানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হতে পারে।

বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়ই সময়সূচি পিছিয়ে যায়। এতে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়, যা অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলে। এসব সমস্যা মাথায় রেখেই নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই যদি সব পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায়, তাহলে সিলেবাস, ক্লাস টেস্ট ও বোর্ড পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই শেষ করা সম্ভব হবে। ফলে শিক্ষার্থীরা জানুয়ারিতেই পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে এবং দুই বছরের মধ্যেই নির্ধারিত পাঠক্রম শেষ করতে পারবে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসকে পুরোপুরি পরীক্ষার জন্য নির্ধারণ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা গ্রহণ ও দ্রুত ফল প্রকাশ করতে হবে। ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

তিনি আরও জানান, লক্ষ্য হচ্ছে—শিক্ষার্থীরা ১৬ বছর বয়সে এসএসসি এবং ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে কোনো সেশনজট ছাড়াই উচ্চশিক্ষায় যেতে পারবে। কারিকুলাম সংস্কারের কাজ চলছে এবং সবকিছু প্রস্তুত থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এটি কার্যকর করা হতে পারে।

তবে নতুন সময়সূচি বাস্তবায়ন নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস সম্পন্ন করার ওপর। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে পরিকল্পনা ঠিক করা জরুরি—অ্যাকাডেমিক বছর ডিসেম্বরেই শেষ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী পুরো শিক্ষা কার্যক্রম সাজাতে হবে।

এদিকে শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পাবলিক পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করে একটি বাস্তবসম্মত নতুন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

শিক্ষাঙ্গন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

আবু তাহের, জাককানইবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের আয়োজনে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড আন্ডার রাইজ এআই ক্যাম্প’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নবযুগ কনফারেন্স রুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এআই ক্যাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাইজের ডিজিটাল গ্রোথ হ্যাক ম্যানেজার মো. ইয়াসিন আরাফাত। […]

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১২ মে ২০২৬, ২৩:০১

আবু তাহের, জাককানইবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের আয়োজনে ‘কেস ক্র্যাকিং সিমপ্লিফায়েড আন্ডার রাইজ এআই ক্যাম্প’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নবযুগ কনফারেন্স রুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

এআই ক্যাম্পের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাইজের ডিজিটাল গ্রোথ হ্যাক ম্যানেজার মো. ইয়াসিন আরাফাত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাইজের ডিজিটাল গ্রোথ অফিসার শাম্মি আক্তার রুমি এবং বাংলালিংকের ইন্টার্ন (এইচআর) নোমান কিবরিয়া। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম জনি।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের কেস সমাধানের কৌশল, কৌশলগত চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধান এবং কাঠামোবদ্ধ বিশ্লেষণ বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সভাপতি শিহাব সারওয়ার বলেন, ‘বর্তমান সময়ে বড় কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীরই থাকে। সেই পথে বিজনেস কেস কম্পিটিশনের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই লক্ষ্যেই আমরা সেমিনারটি আয়োজন করেছি যাতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতে পারে। আশা করছি শিক্ষার্থীরা ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ পেয়েছে।’

উল্লেখ্য, সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ২৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থীঅংশ নেন।