শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

তারুণ্যের ভাবনায় অমর একুশ

আবু তাহের, জাককানইবি একুশ মানে মুক্তি, একুশ মানে চেতনা। একুশ মানে বাংলাকে নিয়ে কোনো সমঝোতা না করে লড়াই করা। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির গর্বের দিন। সালাম, রফিক, শফিক, বরকত ও জব্বারের মতো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বাংলা পেয়েছিল রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি। তরুণ প্রজন্মের কাছে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি কী অর্থ বহন করে? একুশ নিয়ে তাদের ভাবনা কী? তারুণ্যের […]

তারুণ্যের ভাবনায় অমর একুশ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৩৯

আবু তাহের, জাককানইবি

একুশ মানে মুক্তি, একুশ মানে চেতনা। একুশ মানে বাংলাকে নিয়ে কোনো সমঝোতা না করে লড়াই করা। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির গর্বের দিন। সালাম, রফিক, শফিক, বরকত ও জব্বারের মতো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বাংলা পেয়েছিল রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি।

তরুণ প্রজন্মের কাছে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি কী অর্থ বহন করে? একুশ নিয়ে তাদের ভাবনা কী? তারুণ্যের ভাবনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন দৈনিক সকালে’র প্রতিনিধি আবু তাহের।

শিক্ষার্থী সেবিকা তালুকদার বলেন, ‘অমর একুশ কেবল একটি তারিখ নয়; এটি ভাষার অধিকার, আত্মপরিচয় এবং মুক্ত চিন্তার জন্য আত্মত্যাগের চেতনার প্রতীক।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের শক্তি যতই প্রবল হোক, মানুষের আত্মপরিচয়ের আকাঙ্ক্ষা তার চেয়ে শক্তিশালী। মাতৃভাষায় কথা বলা, লেখা ও ভাবা কেবল অভ্যাস নয়,

এটি অর্জিত অধিকার, যা শহীদদের ত্যাগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অমর একুশ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা মানে চিন্তার স্বাধীনতা রক্ষা করা, ন্যায় ও সঠিকের পক্ষে দাঁড়ানো মানে প্রকৃত নাগরিকত্বের প্রকাশ।

তাই একুশ আমাদের শিখিয়েছে—ভাষাকে ভালোবাসা, শুদ্ধভাবে চর্চা করা, বৈচিত্র্যকে সম্মান করা এবং এই চেতনাকে আগামীর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে জাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা আমাদের অন্যতম’

শিক্ষার্থী নাইম বলেন, ‘২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক গভীর অনুভূতির দিন। এই দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার জন্য যে তরুণরা জীবন দিয়েছিলেন,

তাদের ত্যাগ আমাদের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাঙ্গণে ভাষার দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা ছিল ন্যায় ও আত্মমর্যাদার সংগ্রাম। শহীদ সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বার-এর আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে—ভাষা শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি,

চিন্তা ও অস্তিত্বের ভিত্তি। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও স্বীকৃত, যা ঘোষণা করেছে UNESCO। এর মাধ্যমে সারা বিশ্বে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আমার মনে হয়, ভাষা দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য তখনই পূর্ণ হবে,

যখন আমরা নিজের ভাষাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করব, শুদ্ধভাবে লিখব ও বলব, এবং অন্যের মাতৃভাষাকেও সম্মান করব। বাংলা ভাষা আমাদের গর্ব, আমাদের পরিচয়। তাই ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলি—আমরা যেন বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি, লালন করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরি।’

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আমার কাছে শুধু ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, এটা আমাদের হৃদয়ের গভীরে গাঁথা এক অমলিন অনুভূতি।

এই দিনের ভেতরে আছে ভাষার জন্য ভালোবাসা, আত্মত্যাগ আর অদম্য সাহসের গল্প। নিজের মাতৃভাষাকে নিজের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বাঙালিকে রাজপথে নামতে হয়েছে,

বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে হয়েছে বুলেটের সামনে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের বাংলা ভাষার মর্যাদা। আজ আমরা যে ভাষায় স্বপ্ন দেখি, হাসি-কাঁদি,

মনের সব কথা প্রকাশ করি,সেই ভাষা আমাদের কাছে এসেছে শহিদদের ত্যাগের পথ ধরে। তাই একুশ মানে শুধু স্মৃতি নয়, একুশ মানে আত্মপরিচয়ের অহংকার, একুশ মানে বাঙালির চিরন্তন চেতনা।’

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী সারায়াত জামান বলেন, ‘অমর একুশ কেবল অতীতের কোনো স্মৃতি নয়; এটি ভাষা, পরিচয় ও আত্মসম্মানের প্রতীক। একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর দৃষ্টিতে একুশ মানে নিজের ভাষার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রেরণা।

১৯৫২ সালের আত্মত্যাগ আমাদের বাংলায় কথা বলার স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। সেই ত্যাগের প্রকৃত সম্মান তখনই রক্ষা হবে, যখন আমরা আনুষ্ঠানিক স্মরণের বাইরে গিয়ে প্রতিদিনের জীবন, চিন্তা ও আচরণে ভাষার মর্যাদা বজায় রাখবো।’

শিক্ষার্থী তাসকেরাতুন নূর বর্না বলেন, ‘বাঙালি জাতি বীরের জাতি, যার অন্যতম সৃষ্টি মহান একুশ। একুশ—একটি চেতনা, একটি বৈশ্বিক প্রতীক এবং ভাষাগত অধিকার প্রতিষ্ঠার মহাবিস্ফোরণ।

১৯৪৭-পরবর্তী পাকিস্তানি রাষ্ট্রকাঠামো উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রচেষ্টায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষার অধিকার অস্বীকার করে। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে সংগঠিত আন্দোলন,

যা ১৯৫২ সালে চূড়ান্ত রূপ নেয়। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হলে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিতে গড়ে ওঠে শহীদ মিনার এবং প্রতিবছর পালন করা হয় শহীদ দিবস। একুশে ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগ বাঙালিকে তার ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেছে এবং পরবর্তী সকল আন্দোলনের প্রেরণা জুগিয়েছে। এই একুশের চেতনা আজও বাঙালি জাতির মনে অবিনাশী শক্তি হয়ে গ্রথিত আছে।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান লেলিন বলেন, ‘২১ সংখ্যাটা তেমন বড় না হলেও আমার কাছে এই সংখ্যার ভার অনেক বেশি। কারণ এই একুশ ছিল বলেই হয়তো আজ আমি, আমরা—নিজেদের জানতে,

চিনতে এবং নিজেদের মতো করে আবিষ্কার করতে পারছি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যে বিষয়টির উন্মেষ ঘটেছিল,

তা হলো বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা এবং নিজের জাতিসত্তার প্রতি দায়বদ্ধতা। পরবর্তীতে সেটিই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ হিসেবে অঙ্কুরিত হয়েছে। আমি যেহেতু নৃবিজ্ঞানের ছাত্র,

তাই আমার জায়গা থেকে বললে বলতে হয়—ভাষা শুধু ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়; ভাষা আমাদের বাস্তবতা ও চিন্তার জগত বিনির্মাণের অন্যতম হাতিয়ার (স্যাপির–উরফ তত্ত্ব অনুযায়ী)।

আরেকটু বৈজ্ঞানিকভাবে বললে, ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মস্তিষ্কে নিউরনের গঠনচিত্রও ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। যদি ২১ না থাকত, তবে আমরা আমাদের চিন্তা ও ভাবনার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলতাম।

২১ ছিল বলেই আমরা নিজেদের জানতে, চিনতে এবং নিজেদের পরিবেশ-প্রতিবেশকে নিজের মতো করে জানতে পারছি। একুশ ছিল বলেই এত সহজ ও সাবলীল চিন্তার খেলায় মেতে উঠতে পারি আমরা—

জীবনানন্দের রূপসী বাংলা, জসিমউদ্দীনের নকশীকাঁথা কিংবা নজরুলের বিদ্রোহী সত্তাকে ধারণ করতে পারি নিজের মধ্যে। আমাদের জীবনবোধের যে অনন্যতা ও স্বকীয়তা, সেটাও কিন্তু একুশেরই অবদান। যেমনটা আগেই বলেছি, ২১ শুধু ভাষার স্বাধীনতার স্বাদই দেয়নি;

২১ আমাদের ভেতরের স্বাধীনচেতা সত্তাকে জাতীয়তাবাদের রূপে জাগ্রত করেছে, আমাদের প্রস্তুত করেছে নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনের লড়াইয়ের জন্য। আর তাই তো—একুশ আমার অস্তিত্ব, একুশ আমার শেকড়।’

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।