রবিবার, ১০ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

তারুণ্যের ভাবনায় অমর একুশ

আবু তাহের, জাককানইবি একুশ মানে মুক্তি, একুশ মানে চেতনা। একুশ মানে বাংলাকে নিয়ে কোনো সমঝোতা না করে লড়াই করা। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির গর্বের দিন। সালাম, রফিক, শফিক, বরকত ও জব্বারের মতো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বাংলা পেয়েছিল রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি। তরুণ প্রজন্মের কাছে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি কী অর্থ বহন করে? একুশ নিয়ে তাদের ভাবনা কী? তারুণ্যের […]

তারুণ্যের ভাবনায় অমর একুশ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৩৯

আবু তাহের, জাককানইবি

একুশ মানে মুক্তি, একুশ মানে চেতনা। একুশ মানে বাংলাকে নিয়ে কোনো সমঝোতা না করে লড়াই করা। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির গর্বের দিন। সালাম, রফিক, শফিক, বরকত ও জব্বারের মতো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বাংলা পেয়েছিল রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি।

তরুণ প্রজন্মের কাছে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি কী অর্থ বহন করে? একুশ নিয়ে তাদের ভাবনা কী? তারুণ্যের ভাবনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন দৈনিক সকালে’র প্রতিনিধি আবু তাহের।

শিক্ষার্থী সেবিকা তালুকদার বলেন, ‘অমর একুশ কেবল একটি তারিখ নয়; এটি ভাষার অধিকার, আত্মপরিচয় এবং মুক্ত চিন্তার জন্য আত্মত্যাগের চেতনার প্রতীক।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের শক্তি যতই প্রবল হোক, মানুষের আত্মপরিচয়ের আকাঙ্ক্ষা তার চেয়ে শক্তিশালী। মাতৃভাষায় কথা বলা, লেখা ও ভাবা কেবল অভ্যাস নয়,

এটি অর্জিত অধিকার, যা শহীদদের ত্যাগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অমর একুশ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা মানে চিন্তার স্বাধীনতা রক্ষা করা, ন্যায় ও সঠিকের পক্ষে দাঁড়ানো মানে প্রকৃত নাগরিকত্বের প্রকাশ।

তাই একুশ আমাদের শিখিয়েছে—ভাষাকে ভালোবাসা, শুদ্ধভাবে চর্চা করা, বৈচিত্র্যকে সম্মান করা এবং এই চেতনাকে আগামীর প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে জাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা আমাদের অন্যতম’

শিক্ষার্থী নাইম বলেন, ‘২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক গভীর অনুভূতির দিন। এই দিনটি শুধু একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক। ১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষার অধিকার রক্ষার জন্য যে তরুণরা জীবন দিয়েছিলেন,

তাদের ত্যাগ আমাদের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাঙ্গণে ভাষার দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তা ছিল ন্যায় ও আত্মমর্যাদার সংগ্রাম। শহীদ সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বার-এর আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে—ভাষা শুধু কথা বলার মাধ্যম নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি,

চিন্তা ও অস্তিত্বের ভিত্তি। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও স্বীকৃত, যা ঘোষণা করেছে UNESCO। এর মাধ্যমে সারা বিশ্বে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আমার মনে হয়, ভাষা দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য তখনই পূর্ণ হবে,

যখন আমরা নিজের ভাষাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করব, শুদ্ধভাবে লিখব ও বলব, এবং অন্যের মাতৃভাষাকেও সম্মান করব। বাংলা ভাষা আমাদের গর্ব, আমাদের পরিচয়। তাই ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলি—আমরা যেন বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি, লালন করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গর্বের সঙ্গে তুলে ধরি।’

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আমার কাছে শুধু ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, এটা আমাদের হৃদয়ের গভীরে গাঁথা এক অমলিন অনুভূতি।

এই দিনের ভেতরে আছে ভাষার জন্য ভালোবাসা, আত্মত্যাগ আর অদম্য সাহসের গল্প। নিজের মাতৃভাষাকে নিজের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বাঙালিকে রাজপথে নামতে হয়েছে,

বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে হয়েছে বুলেটের সামনে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের বাংলা ভাষার মর্যাদা। আজ আমরা যে ভাষায় স্বপ্ন দেখি, হাসি-কাঁদি,

মনের সব কথা প্রকাশ করি,সেই ভাষা আমাদের কাছে এসেছে শহিদদের ত্যাগের পথ ধরে। তাই একুশ মানে শুধু স্মৃতি নয়, একুশ মানে আত্মপরিচয়ের অহংকার, একুশ মানে বাঙালির চিরন্তন চেতনা।’

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী সারায়াত জামান বলেন, ‘অমর একুশ কেবল অতীতের কোনো স্মৃতি নয়; এটি ভাষা, পরিচয় ও আত্মসম্মানের প্রতীক। একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর দৃষ্টিতে একুশ মানে নিজের ভাষার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রেরণা।

১৯৫২ সালের আত্মত্যাগ আমাদের বাংলায় কথা বলার স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। সেই ত্যাগের প্রকৃত সম্মান তখনই রক্ষা হবে, যখন আমরা আনুষ্ঠানিক স্মরণের বাইরে গিয়ে প্রতিদিনের জীবন, চিন্তা ও আচরণে ভাষার মর্যাদা বজায় রাখবো।’

শিক্ষার্থী তাসকেরাতুন নূর বর্না বলেন, ‘বাঙালি জাতি বীরের জাতি, যার অন্যতম সৃষ্টি মহান একুশ। একুশ—একটি চেতনা, একটি বৈশ্বিক প্রতীক এবং ভাষাগত অধিকার প্রতিষ্ঠার মহাবিস্ফোরণ।

১৯৪৭-পরবর্তী পাকিস্তানি রাষ্ট্রকাঠামো উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রচেষ্টায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষার অধিকার অস্বীকার করে। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে সংগঠিত আন্দোলন,

যা ১৯৫২ সালে চূড়ান্ত রূপ নেয়। ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হলে রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের ফলেই বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিতে গড়ে ওঠে শহীদ মিনার এবং প্রতিবছর পালন করা হয় শহীদ দিবস। একুশে ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগ বাঙালিকে তার ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করেছে এবং পরবর্তী সকল আন্দোলনের প্রেরণা জুগিয়েছে। এই একুশের চেতনা আজও বাঙালি জাতির মনে অবিনাশী শক্তি হয়ে গ্রথিত আছে।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী শাহরিয়ার জামান লেলিন বলেন, ‘২১ সংখ্যাটা তেমন বড় না হলেও আমার কাছে এই সংখ্যার ভার অনেক বেশি। কারণ এই একুশ ছিল বলেই হয়তো আজ আমি, আমরা—নিজেদের জানতে,

চিনতে এবং নিজেদের মতো করে আবিষ্কার করতে পারছি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যে বিষয়টির উন্মেষ ঘটেছিল,

তা হলো বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা এবং নিজের জাতিসত্তার প্রতি দায়বদ্ধতা। পরবর্তীতে সেটিই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ হিসেবে অঙ্কুরিত হয়েছে। আমি যেহেতু নৃবিজ্ঞানের ছাত্র,

তাই আমার জায়গা থেকে বললে বলতে হয়—ভাষা শুধু ভাব প্রকাশের মাধ্যম নয়; ভাষা আমাদের বাস্তবতা ও চিন্তার জগত বিনির্মাণের অন্যতম হাতিয়ার (স্যাপির–উরফ তত্ত্ব অনুযায়ী)।

আরেকটু বৈজ্ঞানিকভাবে বললে, ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মস্তিষ্কে নিউরনের গঠনচিত্রও ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। যদি ২১ না থাকত, তবে আমরা আমাদের চিন্তা ও ভাবনার স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলতাম।

২১ ছিল বলেই আমরা নিজেদের জানতে, চিনতে এবং নিজেদের পরিবেশ-প্রতিবেশকে নিজের মতো করে জানতে পারছি। একুশ ছিল বলেই এত সহজ ও সাবলীল চিন্তার খেলায় মেতে উঠতে পারি আমরা—

জীবনানন্দের রূপসী বাংলা, জসিমউদ্দীনের নকশীকাঁথা কিংবা নজরুলের বিদ্রোহী সত্তাকে ধারণ করতে পারি নিজের মধ্যে। আমাদের জীবনবোধের যে অনন্যতা ও স্বকীয়তা, সেটাও কিন্তু একুশেরই অবদান। যেমনটা আগেই বলেছি, ২১ শুধু ভাষার স্বাধীনতার স্বাদই দেয়নি;

২১ আমাদের ভেতরের স্বাধীনচেতা সত্তাকে জাতীয়তাবাদের রূপে জাগ্রত করেছে, আমাদের প্রস্তুত করেছে নিজেদের অধিকার ও স্বাধীনতা অর্জনের লড়াইয়ের জন্য। আর তাই তো—একুশ আমার অস্তিত্ব, একুশ আমার শেকড়।’

শিক্ষাঙ্গন

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র। ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’ রাত ১২টা […]

ভাষা শহিদদের প্রতি সাদিক কায়েম-ফরহাদদের শ্রদ্ধা, ফেসবুক পোস্টে সর্ব মিত্র চাকমার ক্ষোভ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৭

শুক্রবার দিবাগত রাতে (২১ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির সৌজন্যে পাওয়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লাইভ অনুষ্ঠানের একটি স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করেন সর্ব মিত্র।

ওই পোস্টে তিনি ক্ষোভ নিয়ে লিখেছেন, ‘হেমা চাকমা, ফাতেমা তাসনিম জুমা, সর্ব মিত্র চাকমা, রাফিয়া, উম্মে সালমা and others আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশনের বদৌলোতে জানলাম ডাকসু শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গেছে, হাহা!’

রাত ১২টা ৪৮ মিনিটে দেয়া পোস্টটিতে এক ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজারের মতো রিঅ্যাকশন পড়েছে। আর কমেন্ট করা হয়েছে দুইশ’র বেশি। এসব কমেন্টে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নানা ধরনের সমালোচনা করেছেন। বিষয়টিকে ডাকসু সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল হিসেবে দেখছেন কমেন্টকারীরা।

সর্ব মিত্রের স্ক্রিনশটটিতে দেখা যায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ ছাড়াও আরও কয়েকজন মিলে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। […]

উচ্চ আদালতের রায়ে ডিভিএম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির দাবিতে পবিপ্রবির ভর্তিকৃত ডিভিএম শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১:১৪

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) ডিসিপ্লিনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা পুনরায় ডিভিএম ডিগ্রি অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আজ(২৪ ফেব্রুয়ারি) এএনএসভিএম অনুষদের ডীনের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, তারা পূর্বে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ৫৪তম (জরুরি) একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ডিভিএম এবং অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রি বাতিল করে তাদের বি.এস.সি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি ডিগ্রির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

পরবর্তীতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১৭৩১৮/২০২৫ মামলার রায়ে পৃথকভাবে ডিভিএম ও বি.এসসি এএইচ (অনার্স) ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্তকে আইনবহির্ভূত ঘোষণা করা হয় এবং স্বতন্ত্র কোর্সসমূহ সমান্তরালভাবে চালু রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। রায়ের আলোকে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক অবস্থান স্পষ্ট হওয়ায় পূর্বের ডিভিএম ডিগ্রি দাবি জানায়।

এ বিষয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভিএম ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সৈকত হাসান বলেন, “আমাদের যখন কম্বাইন্ড ডিগ্রির আওতায় আনা হয়েছিল, তখন জানানো হয়েছিল যে সারা দেশে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রি বি.এসসি ইন ভেটেরিনারি সায়েন্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল হাসব্যান্ড্রি বাস্তবায়ন করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি। এখন হাইকোর্টের রায় আমাদের পূর্বের ডিগ্রি ডিভিএম-এ ফেরার সুযোগ করে দিয়েছে। যেহেতু ডিভিএম একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রি, তাই আমরা আমাদের মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন অনুযায়ী ডিভিএম ডিগ্রি পুনঃবাস্তবায়ন চাই।”

এ সময় অপর আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “ডিভিএম ডিসিপ্লিনে প্রত্যাবর্তনের পেছনে একাডেমিক ও পেশাগত কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যতে ডিগ্রির স্বীকৃতি, পেশাগত নিবন্ধন ও উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো ,ক্রেডিট সমন্বয় বা প্রশাসনিক রূপান্তরজনিত কারণে সেশন জট কিংবা একাডেমিক বিভ্রান্তি দূর করা, মূল ভর্তি ডিসিপ্লিন ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখা এবং পেশাগত পরিচয় ও কর্মজীবনের পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা।”

শিক্ষার্থীরা তাদের আবেদনকে আইনসম্মত ও একাডেমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ ও প্রশাসনিক সমাধান প্রত্যাশা করেছেন। আদালতের রায় যথাযথ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তাদের ডিভিএম ডিসিপ্লিনে পুনঃঅন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সদয় বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।