শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তরুণদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

আবু তাহের, জাককানইবি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের দিক এগোচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে যেমন আগ্রহ ও প্রত্যাশা, তেমনি কিছু উদ্বেগও দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এবার নজরকাড়া গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সম্ভাব্য টালমাটাল পরিস্থিতি এবং নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশ—এসব বিষয় নিয়ে জাতীয় কবি […]

জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তরুণদের ভাবনা ও প্রত্যাশা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৫১

আবু তাহের, জাককানইবি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের দিক এগোচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে যেমন আগ্রহ ও প্রত্যাশা, তেমনি কিছু উদ্বেগও দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এবার নজরকাড়া গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সম্ভাব্য টালমাটাল পরিস্থিতি এবং নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশ—এসব বিষয় নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন দৈনিক সকালে’র প্রতিনিধি আবু তাহের ।

ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা :

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা অনেক। আমি ভোটার হওয়ার পরে এটা প্রথম নির্বাচন, তাই আগ্রহ অনেকাংশে বেশি। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশা করছি। আগের সরকার নাগরিকদের ভোটিং অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো, গত নির্বাচন গুলোতে দেখা যেতো একজনের ভোট অন্য জন দিয়ে দিতো। এরকম যাতে না হয়, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের ভোট নিজে দিতে চাই। নির্বাচনে কোনো রকম অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্মুখীন হতে চাই না, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ তাদের পছন্দের পার্থীকে ভোট দিতে পারে। নির্বাচন পরবর্তী সরকারের দিকে গোটা বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে। দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করার কঠিন দায়িত্ব তাদের উপর। ছাত্র জনতার প্রত্যাশা, নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণ সবটাই নির্ভর করছে নতুন সরকারের উপর। নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে সব চাইতে বড় প্রত্যাশা, আমার ভাই হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা। আগামীর দিন গুলো বিচার হীনতায় না কাটুক।

সেলিনা শেলী

শিক্ষার্থী, স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগ

ব্যালট বিপ্লব ও আগামীর বাংলাদেশ :

চব্বিশের রক্তস্নাত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। একজন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া প্রথমবারের ভোটার হিসেবে এই নির্বাচন আমার কাছে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং আত্মমর্যাদা ও ভোটাধিকারের পুনরুদ্ধার। অতীতের একপাক্ষিক নির্বাচনের তিক্ততা ভুলে আমরা একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দেখতে চাই। যে সরকারই আসুক, তাদের মূলনীতি হওয়া উচিত— ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা চাই জনবান্ধব প্রশাসন, আইনের শাসন, শিক্ষাঙ্গনের শুদ্ধতা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিকল্পিত নগরায়ন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তব জনকল্যাণে রূপ নেয়। একই সঙ্গে ক্ষমতার মোহ থেকে জন্ম নেওয়া স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার অবসান ঘটিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়াই আমাদের প্রত্যাশা। এই নির্বাচন হোক বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্জন্মের সোপান।

জায়েদ আহাম্মদ

শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

নির্বাচন ক্ষমতার পালাবদল নয়, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মুহূর্ত :

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালা বদলের নির্বাচন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় রূপান্তরমূলক মুহূর্ত। এটি নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক গতিপথ; জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে,ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে নাকি পূর্বের রাজনৈতিক কাঠামোর দিকে ধাবিত হবে।আমার প্রত্যাশা নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয় এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের নিরাপত্তা বিধান।রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি প্রত্যাশা, আপনারা ভয়-ভীতির রাজনীতি পরিহার করে, নিজেদের দক্ষতা, যোগ্যতা ,সততার মাধ্যমে ভোট জয় করে নিবেন। জয় পরাজয় যাই হোক, আপনারা সুষ্ঠু পরিবেশ ও শৃংখলা বজায় রাখুন। আমাদের কার্যক্রম আমাদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে, কারণ আমরাই বাংলাদেশ। নির্বাচনকালে উদ্বেগের বিষয় হলো নির্বাচনী সহিংসতা ও নিরাপত্তার অভাব,আন্তর্জাতিক চাপ কূটনৈতিক সংকট । নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে তরুণরা আশাহত হবে।আমার স্বপ্ন,বাংলাদেশ হবে তারুণ্যময়। রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের অসাধারণ চিন্তা ভাবনায় দূর্বার গতিতে ছুটে চলবে বাংলাদেশ স্বপ্নের গন্তব্যে। ন্যায়-ইনসাফের কথা বললে,আর কোনো ‘ওসমান হাদি’ কে হারাবে না বাংলাদেশ, বরং বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ থাকবে ‘চির উন্নত মম শির’ হয়ে।

সুমাইয়া আক্তার প্রমী

শিক্ষার্থী, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগ

যুবশক্তির অংশগ্রহণেই বদল আসবে :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। প্রত্যাশা, রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে, যাতে জনগণ গণভোটের মাধ্যমে দেশকে স্বৈরাচারের ছায়া থেকে বের করে আনতে পারে। বিশেষ করে যুবশক্তি ও নারীদের সচেতন অংশগ্রহণ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে উদ্বেগও রয়েছে। অতীত নির্বাচনে সহিংসতা, ভোট কারচুপি ও অস্থিরতার অভিজ্ঞতা মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করেছে। বেকারত্ব, দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা, দুর্নীতি এবং নৃগোষ্ঠীদের ওপর হামলার ঘটনা এই শঙ্কাকে আরও বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি স্বার্থের ঊর্ধ্বে না ওঠে, তবে গণতন্ত্রই ঝুঁকির মুখে পড়বে। আমি স্বপ্ন দেখি এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে মেয়েরা নিরাপদ, রোগীরা অবহেলামুক্ত চিকিৎসা পায়, যুবকরা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান পায়, দরিদ্ররা ঘুষ ছাড়াই সেবা পায় এবং নৃগোষ্ঠীরা ভয়ে নয়, মর্যাদায় বাঁচে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব যদি নির্বাচিত সরকার শিক্ষা সংস্কার, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে এবং একই সঙ্গে আমরা জনগণও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করি।

জাকিয়া সুলতানা

শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমার মনে একসাথে আশা ও উদ্বেগ কাজ করছে। আমি চাই, এবারের নির্বাচন সত্যিকার অর্থে সবার অংশগ্রহণে হোক, যেখানে ভোট হবে মানুষের মতামতের প্রতিফলন—কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়। সহিংসতামুক্ত, শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশে মানুষ ভোট দিক, কারণ সাধারণ মানুষ এখন অস্থিরতা নয়, স্বস্তি চায়। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা—দ্রব্যমূল্যের চাপ কমানো, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষিত যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করা। নির্বাচন ঘিরে দ্বন্দ্ব বাড়লে দেশ আবার অস্থিতিশীল হতে পারে—এটাই বড় শঙ্কা। আমি চাই, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রতিশোধের রাজনীতি না হোক এবং ফল যাই হোক, জনগণের বিশ্বাস ফিরে আসুক। যে সরকারই আসুক, অর্থনীতি, চাকরি, টাকার মান ও দুর্নীতির মতো সমস্যার কার্যকর সমাধান চাই, যাতে মানুষ হতাশা ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি পায়।

তাসকেরাতুন নূর বর্না

শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ

রাষ্ট্র সংস্কারের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কারের গণভোট একসাথে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পরে দেশে নির্বাচনী আমেজ ফিরে এসেছে, এই উৎসবমুখর পরিবেশে আশা করছি, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মূল্যবোধ ধারণকারী বাংলাদেশপন্থীরা দেশ পরিচালনায় আসবে, ইনশাআল্লাহ। নির্বাচন কেন্দ্রিক কিছু সহিংসতার ঘটনা ইতোমধ্যেই ঘটেছে। বিশেষ করে অনলাইনে নারীদের প্রতি সাইবার বুলিং, এবং সরাসরি অনেক স্থানে নারীদের প্রতি হামলার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসবের মাঝেও আমরা নির্বাচন পরবর্তী সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি—একটি দুর্নীতিমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক সমাজ কাঠামোর, যেখানে সবাই সমান সুযোগ ও মর্যাদা পাবে, ইনশাআল্লাহ।

রফিকুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।