আবু তাহের, জাককানইবি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের দিক এগোচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে যেমন আগ্রহ ও প্রত্যাশা, তেমনি কিছু উদ্বেগও দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এবার নজরকাড়া গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সম্ভাব্য টালমাটাল পরিস্থিতি এবং নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশ—এসব বিষয় নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন দৈনিক সকালে’র প্রতিনিধি আবু তাহের ।
ভোটের অধিকার ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা :
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা অনেক। আমি ভোটার হওয়ার পরে এটা প্রথম নির্বাচন, তাই আগ্রহ অনেকাংশে বেশি। একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশা করছি। আগের সরকার নাগরিকদের ভোটিং অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো, গত নির্বাচন গুলোতে দেখা যেতো একজনের ভোট অন্য জন দিয়ে দিতো। এরকম যাতে না হয়, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের ভোট নিজে দিতে চাই। নির্বাচনে কোনো রকম অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্মুখীন হতে চাই না, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ তাদের পছন্দের পার্থীকে ভোট দিতে পারে। নির্বাচন পরবর্তী সরকারের দিকে গোটা বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে। দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করার কঠিন দায়িত্ব তাদের উপর। ছাত্র জনতার প্রত্যাশা, নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন পূরণ সবটাই নির্ভর করছে নতুন সরকারের উপর। নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে সব চাইতে বড় প্রত্যাশা, আমার ভাই হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা। আগামীর দিন গুলো বিচার হীনতায় না কাটুক।
সেলিনা শেলী
শিক্ষার্থী, স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগ
ব্যালট বিপ্লব ও আগামীর বাংলাদেশ :
চব্বিশের রক্তস্নাত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। একজন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া প্রথমবারের ভোটার হিসেবে এই নির্বাচন আমার কাছে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং আত্মমর্যাদা ও ভোটাধিকারের পুনরুদ্ধার। অতীতের একপাক্ষিক নির্বাচনের তিক্ততা ভুলে আমরা একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দেখতে চাই। যে সরকারই আসুক, তাদের মূলনীতি হওয়া উচিত— ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা চাই জনবান্ধব প্রশাসন, আইনের শাসন, শিক্ষাঙ্গনের শুদ্ধতা, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিকল্পিত নগরায়ন। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তব জনকল্যাণে রূপ নেয়। একই সঙ্গে ক্ষমতার মোহ থেকে জন্ম নেওয়া স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার অবসান ঘটিয়ে একটি ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়াই আমাদের প্রত্যাশা। এই নির্বাচন হোক বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্জন্মের সোপান।
জায়েদ আহাম্মদ
শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
নির্বাচন ক্ষমতার পালাবদল নয়, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মুহূর্ত :
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালা বদলের নির্বাচন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় রূপান্তরমূলক মুহূর্ত। এটি নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক গতিপথ; জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে,ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে নাকি পূর্বের রাজনৈতিক কাঠামোর দিকে ধাবিত হবে।আমার প্রত্যাশা নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয় এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের নিরাপত্তা বিধান।রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি প্রত্যাশা, আপনারা ভয়-ভীতির রাজনীতি পরিহার করে, নিজেদের দক্ষতা, যোগ্যতা ,সততার মাধ্যমে ভোট জয় করে নিবেন। জয় পরাজয় যাই হোক, আপনারা সুষ্ঠু পরিবেশ ও শৃংখলা বজায় রাখুন। আমাদের কার্যক্রম আমাদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে, কারণ আমরাই বাংলাদেশ। নির্বাচনকালে উদ্বেগের বিষয় হলো নির্বাচনী সহিংসতা ও নিরাপত্তার অভাব,আন্তর্জাতিক চাপ কূটনৈতিক সংকট । নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে তরুণরা আশাহত হবে।আমার স্বপ্ন,বাংলাদেশ হবে তারুণ্যময়। রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের অসাধারণ চিন্তা ভাবনায় দূর্বার গতিতে ছুটে চলবে বাংলাদেশ স্বপ্নের গন্তব্যে। ন্যায়-ইনসাফের কথা বললে,আর কোনো ‘ওসমান হাদি’ কে হারাবে না বাংলাদেশ, বরং বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ থাকবে ‘চির উন্নত মম শির’ হয়ে।
সুমাইয়া আক্তার প্রমী
শিক্ষার্থী, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগ
যুবশক্তির অংশগ্রহণেই বদল আসবে :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। প্রত্যাশা, রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে, যাতে জনগণ গণভোটের মাধ্যমে দেশকে স্বৈরাচারের ছায়া থেকে বের করে আনতে পারে। বিশেষ করে যুবশক্তি ও নারীদের সচেতন অংশগ্রহণ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে উদ্বেগও রয়েছে। অতীত নির্বাচনে সহিংসতা, ভোট কারচুপি ও অস্থিরতার অভিজ্ঞতা মানুষের মনে ভয় সৃষ্টি করেছে। বেকারত্ব, দুর্বল স্বাস্থ্যসেবা, দুর্নীতি এবং নৃগোষ্ঠীদের ওপর হামলার ঘটনা এই শঙ্কাকে আরও বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি স্বার্থের ঊর্ধ্বে না ওঠে, তবে গণতন্ত্রই ঝুঁকির মুখে পড়বে। আমি স্বপ্ন দেখি এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে মেয়েরা নিরাপদ, রোগীরা অবহেলামুক্ত চিকিৎসা পায়, যুবকরা দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান পায়, দরিদ্ররা ঘুষ ছাড়াই সেবা পায় এবং নৃগোষ্ঠীরা ভয়ে নয়, মর্যাদায় বাঁচে। এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব যদি নির্বাচিত সরকার শিক্ষা সংস্কার, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে এবং একই সঙ্গে আমরা জনগণও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করি।
জাকিয়া সুলতানা
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আমার মনে একসাথে আশা ও উদ্বেগ কাজ করছে। আমি চাই, এবারের নির্বাচন সত্যিকার অর্থে সবার অংশগ্রহণে হোক, যেখানে ভোট হবে মানুষের মতামতের প্রতিফলন—কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়। সহিংসতামুক্ত, শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশে মানুষ ভোট দিক, কারণ সাধারণ মানুষ এখন অস্থিরতা নয়, স্বস্তি চায়। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা—দ্রব্যমূল্যের চাপ কমানো, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষিত যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করা। নির্বাচন ঘিরে দ্বন্দ্ব বাড়লে দেশ আবার অস্থিতিশীল হতে পারে—এটাই বড় শঙ্কা। আমি চাই, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রতিশোধের রাজনীতি না হোক এবং ফল যাই হোক, জনগণের বিশ্বাস ফিরে আসুক। যে সরকারই আসুক, অর্থনীতি, চাকরি, টাকার মান ও দুর্নীতির মতো সমস্যার কার্যকর সমাধান চাই, যাতে মানুষ হতাশা ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি পায়।
তাসকেরাতুন নূর বর্না
শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ
রাষ্ট্র সংস্কারের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কারের গণভোট একসাথে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পরে দেশে নির্বাচনী আমেজ ফিরে এসেছে, এই উৎসবমুখর পরিবেশে আশা করছি, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মূল্যবোধ ধারণকারী বাংলাদেশপন্থীরা দেশ পরিচালনায় আসবে, ইনশাআল্লাহ। নির্বাচন কেন্দ্রিক কিছু সহিংসতার ঘটনা ইতোমধ্যেই ঘটেছে। বিশেষ করে অনলাইনে নারীদের প্রতি সাইবার বুলিং, এবং সরাসরি অনেক স্থানে নারীদের প্রতি হামলার খবর অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসবের মাঝেও আমরা নির্বাচন পরবর্তী সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি—একটি দুর্নীতিমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক সমাজ কাঠামোর, যেখানে সবাই সমান সুযোগ ও মর্যাদা পাবে, ইনশাআল্লাহ।
রফিকুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ