শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

গণমাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ চায় তরুণরা

আবু তাহের, জাককানইবি শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন : মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে প্রতিবছর নতুন করে গুরুত্ব পায় দিনটি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ উপলক্ষে জাতীয় […]

গণমাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ চায় তরুণরা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মে ২০২৬, ১৪:২১

আবু তাহের, জাককানইবি

শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন : মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে প্রতিবছর নতুন করে গুরুত্ব পায় দিনটি।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে দিবসটি। এ উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা গেছে ভিন্নধর্মী ভাবনা ও প্রত্যাশা। বিশেষ করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের জবাবদিহিতা নিয়ে তারা নিজেদের মতামত তুলে ধরেছেন।

শিক্ষার্থীদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম ভিত্তি হলো স্বাধীন গণমাধ্যম। তবে বাস্তবতায় রাজনৈতিক চাপ, বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব এবং সরকারঘনিষ্ঠ এজেন্ডা বাস্তবায়নের কারণে অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকতা তার নিরপেক্ষতা হারায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী ঐশী পোদ্দার আরোহী বলেন, ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি এমন গণমাধ্যম চাই, যা সত্য প্রকাশে সাহসী, ন্যায় প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় এবং মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক হবে। গণমাধ্যম এমন একটি শক্তি, যা সমাজকে সচেতন করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে এবং সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরে। তাই আমি চাই সংবাদমাধ্যম সব ধরনের চাপ, ভয় ও পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে থেকে বস্তুনিষ্ঠ ও যাচাইকৃত সংবাদ প্রকাশ করুক।

আমি চাই গণমাধ্যমে তরুণ সমাজের কণ্ঠস্বর আরও জোরালোভাবে উঠে আসুক। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, সংগ্রাম, সাফল্য, শিক্ষা ব্যবস্থার সমস্যা, কর্মসংস্থানের সংকট, মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি করে আলোচনা হোক।

কারণ আজকের তরুণরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে, আর তাদের ভাবনা তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমার প্রত্যাশা, গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম হবে না বরং এটি হবে সত্য, সচেতনতা ও পরিবর্তনের পথপ্রদর্শক। যে গণমাধ্যম সমাজকে আলোর পথে এগিয়ে নেবে, মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে এবং একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।’

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুজানা ইতি বলেন, ‘বিপ্লবোত্তর সংবাদপত্রের নবদিগন্ত: স্বাধীনতা ও দায়বদ্ধতার সন্ধানে ​৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে এক নতুন ভোরের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের ভয়ের সংস্কৃতি ও ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ এর শৃঙ্খল ভেঙে সাংবাদিকতা আজ যেন মুক্ত বাতাসের স্বাদ পেয়েছে।

বর্তমানে গণমাধ্যমে যে বাকস্বাধীনতা ও সমালোচনা করার অকুতোভয় সাহস আমরা দেখছি, তা একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। তবে এই স্বাধীনতার পিঠে চড়ে আসা ছদ্মবেশী ‘গুজব’ এবং তথ্যের বিকৃতি সমাজকে বিভ্রান্তির কানাগলিতে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করেছে।

​বিগত সময়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাংবাদিকতা কেবল সরকারদলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল, যা পেশাদারিত্বের চরম অবক্ষয়। বর্তমানে সেই পক্ষপাতদুষ্ট ধারা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ মিললেও, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

প্রকৃতপক্ষে, একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ঢাল হবে না, বরং তা হবে রাষ্ট্রযন্ত্রের স্বচ্ছ দর্পণ। ভবিষ্যতের কাম্য গণমাধ্যম হবে এমন এক প্রতিষ্ঠান, যেখানে সংবাদ প্রকাশের অদম্য সাহসের সাথে মিশে থাকবে বস্তুনিষ্ঠার গভীর দায়বদ্ধতা। তথ্য যাচাইয়ের কঠোর মানদণ্ড বজায় রেখে সাংবাদিকরা যখন কেবল সত্যের প্রতি অনুগত থাকবেন, তখনই মানবাধিকার ও নিরাপত্তা সুসংহত হয়ে একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠিত হবে।’

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জায়েদ আহাম্মদ বলেন, ‘আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, এই দিনটি শুধু উদ্‌যাপনের নয়, বরং আত্মসমালোচনা ও প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের দর্পণ যেখানে সত্য, ন্যায় ও জনগণের কণ্ঠ প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তাই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশন আজ সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করছে।

বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। আমরা এমন একটি গণমাধ্যম চাই, যা কোনো ধরনের সরকারি বা ক্ষমতাসীন মহলের অযাচিত হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থেকে সত্য প্রকাশে সাহসী ভূমিকা রাখবে।

জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের মানুষ যে নতুন প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েছে, তার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মুক্ত ও নির্ভীক গণমাধ্যমের আকাঙ্ক্ষা। জনগণ এখন এমন সংবাদ চায়, যা তাদের বাস্তবতা তুলে ধরে, বিভ্রান্তি নয় বরং সচেতনতা সৃষ্টি করে।

দুঃখজনকভাবে, বর্তমান সময়ে কুতথ্য, অপতথ্য ও যাচাইবিহীন সংবাদের প্রবণতা বেড়েছে, যা সমাজে বিভ্রান্তি ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করছে। তাই গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ না করা এবং নৈতিকতার মানদণ্ড অটুট রাখা।

স্বাধীন বাংলাদেশে এবং প্রযুক্তিনির্ভর এই বিশ্বে মুক্ত গণমাধ্যম শুধু প্রয়োজনই নয়, বরং একটি সুস্থ গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। ভবিষ্যতের বাংলাদেশে আমরা এমন একটি গণমাধ্যম প্রত্যাশা করি, যা সত্যের পক্ষে, জনগণের পক্ষে এবং ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেবে।’

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘আমি এমন একটি গণমাধ্যম চাই, যা সত্যকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরবে, কোনো রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা গোষ্ঠীগত চাপের কাছে মাথা নত করবে না। যেখানে সাংবাদিকতা হবে দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার উপর ভিত্তি করে, কেবলমাত্র চটকদার খবরের জন্য নয়।

আমি চাই, গণমাধ্যম মানুষের কণ্ঠস্বর হোক-বিশেষ করে প্রান্তিক ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরুক। সেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তবে তা হবে দায়িত্বশীল ও তথ্যনির্ভর। ভুয়া খবর, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত একটি স্বচ্ছ মাধ্যম চাই।

গণমাধ্যম যেন ক্ষমতার মুখপাত্র না হয়ে, ক্ষমতার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। সাংবাদিকরা যেন নিরাপদে কাজ করতে পারেন, ভয় বা হুমকির মধ্যে নয়। আমি এমন মিডিয়া চাই, যা মানুষকে সচেতন করবে, বিভক্ত নয়-ঐক্যবদ্ধ করবে।

যেখানে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও মানবকল্যাণমুখী গণমাধ্যমই আমার প্রত্যাশা।’

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।