জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কারের ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার সংগঠনটির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া। ‘প্রতিবাদ করলেই বহিষ্কার হতে হয়, এর থেকে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়াই ভালো নয়?’- এমন মন্তব্য করেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন এই ছাত্রদল নেত্রী।
ফেসবুক পোস্টে সুমাইয়া লেখেন, ‘অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত মনে জানাচ্ছি যে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি আমার রাজনৈতিক বিশ্বাস, মূল্যবোধ এবং প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশ আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘এটি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে আমার সাময়িক বিরতি, জাতীয়তাবাদী রাজনীতি থেকে অবসর নয়।
যতদিন পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের রাজনীতি আমার কাছে সুশৃঙ্খল, আদর্শনিষ্ঠ ও সুস্থ ধারায় পরিচালিত হচ্ছে বলে মনে না হবে, ততদিন আমি এই সাংগঠনিক রাজনীতিতে ফিরে আসব না।’
এদিকে, সুমাইয়ার পদত্যাগের ঘোষণার ওই পোস্টে শাখা ছাত্রদলের এক নেতা মন্তব্য করেন, ‘রাজনীতিতে ধৈর্য ধরে লড়াই করতে হয়, প্রতিবাদ করতে হয়। এভাবে পদত্যাগ করলে সমাধান হয় না, সমাধান নিজের বের করতে হবে।” এর উত্তরে সুমাইয়া লেখেন, “ভাই, প্রতিবাদ করলে সে বহিষ্কারই খেতে হয়। বহিষ্কার থেকে স্ব-ইচ্ছায় চলে যাওয়াই ভালো না?’
বহিষ্কারের প্রেক্ষাপট ও ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা
জাবি ছাত্রদলে সাম্প্রতিক অস্থিরতার শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে বিএনপিপন্থি একজন শিক্ষককে মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে। এর জেরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের এক বিজ্ঞপ্তিতে ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের’ কথা উল্লেখ করে জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আঞ্জুমান আরা ইকরাকে বহিষ্কার করা হয়।
তবে বহিষ্কারাদেশে অভিযোগের বিস্তারিত কোনো উল্লেখ ছিল না। ইকরা জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে এজিএস পদে নির্বাচন করেছিলেন।
এই বহিষ্কারের প্রতিবাদে শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হন। তাদের মধ্যে সৈয়দা অনন্যা ফারিয়াও ছিলেন, যিনি আঞ্জুমান ইকরার প্রতি সংহতি জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘একজন মানুষ তার মতামত, সমর্থন দিতে পারবে না? যৌক্তিক সমালোচনা করলেই গলা টিপে ধরা হবে?’
এর দুদিন পরই, গত ২৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আরেক বিজ্ঞপ্তিতে সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া এবং ইমাম হোসেনকে ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ অভিযোগে তাদের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর অনন্যা ফারিয়া ফেসবুকে অভিযোগ করেছিলেন যে, জাকসু নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিনিময়ে এক শিক্ষক তাঁকে কক্সবাজার যাওয়ার টিকিট দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
পদত্যাগের বিষয়ে ছাত্রদলের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘তিনি ব্যক্তিগত ইচ্ছা থেকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেই।’
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সুলতানা ছিয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল থেকে কার্যকরী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।