বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ভোলা-৪ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর প্রেস ব্রিফিং

মুশফিক হাওলাদার ভোলা: ভোলা-৪ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও হাতপাখা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর এ এম এম কামাল উদ্দিনের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।  রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বাদ আছর আল বারাকা হজ্ব অফিসে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।  এসময় প্রফেসর এ এম এম কামাল উদ্দিন বলেন,  প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত […]

ভোলা-৪ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর প্রেস ব্রিফিং

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০০:৫৪

মুশফিক হাওলাদার ভোলা:

ভোলা-৪ আসনে নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রস্তুতি নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও হাতপাখা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর এ এম এম কামাল উদ্দিনের প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বাদ আছর আল বারাকা হজ্ব অফিসে এ প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। 

এসময় প্রফেসর এ এম এম কামাল উদ্দিন বলেন, 

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা,

আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশ একটি পরিবর্তন চায়। পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ফেলে দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চায়। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে ইসলামপন্থীদের শক্তি একীভূত করার লক্ষ্যে ১ বক্স পলিসি বাস্তবায়নে সমমনা ও দেশের পক্ষের শক্তিকে নিয়ে মাঠে নামেন। 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে,বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে ইসলামী শক্তির ঐক্যই ছিল জাতির একমাত্র আশার জায়গা। সেই উপলব্ধি থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর সাহেব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সবাইকে নিয়ে পথচলা শুরু করেন। 

যাতে বিভক্ত ইসলামি ভোট একত্রিত হয়,

ইসলামপন্থীরা শক্ত অবস্থান নিতে পারে, ইসলামী রাজনীতির মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং সবার সমন্বয়ে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। 

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ সেই ১ বক্স নীতি বাস্তবায়নের বদলে ভেস্তে যাওয়ার পথে।

কেন ১ বক্স নীতি বাধাগ্রস্ত হলো? এর প্রধান কারণ হলো ১ বক্স পলিসিতে সবশেষে যুক্ত হওয়া একসময় ইসলামী রাজনীতিতে বিশ্বাসী বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিতে বিশ্বাসী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতের অতি রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস ও একচ্ছত্র আধিপত্যের মনোভাবই আজকের পরিস্থিতির সৃষ্টি।

দলটি যুগপৎ আন্দোলন সহ বিভিন্ন কাজ একসাথে ও আগ্রহের সাথে করলেও আসন সমঝোতার আলাপ আসলেই ভিন্ন চেহারা প্রদর্শন করতে শুরু করে। 

সমঝোতার নামে একতরফা শর্ত চাপানো, আসন বণ্টনে নিজেদের দলীয় প্রাপ্তিকেই অধিক প্রাধান্য দেয়া,

ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দলগুলোকে সমমর্যাদার শরিক না ভেবে অধস্তন হিসেবে দেখার চেষ্টা করা যা ঐক্যের পরিপন্থী।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাথে বিগত দিনে যা যা ঘটেছে – 

 বৈঠকের সময় নিয়ে টালবাহানা, সিদ্ধান্তের টেবিলে উপেক্ষা, নামমাত্র কয়েকটি আসন—তাও ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো, মিডিয়ায় পরিকল্পিত অপপ্রচার, এনসিপিসহ কয়েকটি দলের সাথে গোপন আঁতাত, বিএনপির সাথে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের ঘোষণা, এমনকি ভারতের সাথে গোপন বৈঠকের খবরও প্রকাশ পেল, এনসিপির মাধ্যমে পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের গুঞ্জন সহ বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত বিষয় সামনে আসায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে এবং আজকের এ কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।  

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—গত কয়েক দিনে একটি পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। তন্মধ্যে কয়েকটি  

১) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৫০, ২০০ আসন চায় টাইপের কথা বারবার সামনে আনা হয়েছে। অথচ এমন কিছুই ঘটেনি। হ্যাঁ, দেশব্যাপী জরিপ চালিয়ে সম্ভাব্য ১৪৩ টি আসনকে A গ্রেডের উল্লেখ করে আলোচনার টেবিলে রাখা হয়। উদ্দেশ্য ছিল এখানে আলোচনা পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া। কিন্তু আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম এমন গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি মিডিয়ায় চলে আসলো! 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এটাকে ওই টেবিলে থাকা লোকদের চক্রান্ত হিসেবেই দেখছে। পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ এর স্বপক্ষে শক্তিশালী দলিল হিসেবে কাজ করছে। 

যেমন-

২) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে প্রশ্নবিদ্ধ ও খাটো করে দেখানোর মানসে বারবার “কৃত্রিম জরিপ” ছড়ানো হয়। যেখানে ইসলামী আন্দোলনকে ইচ্ছাকৃতভাবে নগণ্য দেখানো হয়েছে। অথচ জরিপের কোনো পদ্ধতি, নমুনা বা গ্রহণযোগ্যতা প্রকাশ করা হয়নি। 

৩) শরিকদের বিরুদ্ধে জামায়াতের নেতৃবৃন্দ কর্মী সমর্থকরা আরেকটি ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়েছে যে “ জিততে পারে না” ন্যারেটিভ ছড়ানো

– উদ্দেশ্য: কর্মী ও সমর্থকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া।বাস্তবতা: ইসলামী আন্দোলন বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোট পেয়েছে। 

৪) এনসিপি অতিরঞ্জিতভাবে শক্তিশালী দেখানো- 

– যাতে ইসলামী আন্দোলনের আসন দাবি প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়

– যা বাস্তব ভোটের হিসাবের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক

সোশ্যাল মিডিয়া ও মিডিয়ায় অপপ্রচার

৫) ইসলামী আন্দোলনকে অপ্রাসঙ্গিক প্রমাণের চেষ্টা- 

আসন সমঝোতার আলাপ আসার পরপরই শুরু হল ইসলামী আন্দোলনকে অপ্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা। ঐক্যের বদলে বিভ্রান্তি তৈরির কৌশল অবলম্বন করা হল। 

এই সবকিছু মিলিয়ে এটি স্পষ্ট—

এগুলো রাজনৈতিক মতপার্থক্য নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতিকে ‘নাই’ করে দেওয়ার অপচেষ্টা।

আজ কিছু প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে—

১) যদি সবাই একসাথে জিতবে, তবে কেন শরিকদের দুর্বল প্রমাণের চেষ্টা?

২) যদি সমঝোতা আন্তরিক হয়, তবে কেন ভেতরে ভেতরে ভিন্ন ন্যারেটিভ?

৩) ইসলামী আন্দোলন যদি জিততেই না পারে, তবে তাদের ভয় কেন?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জামায়াতকে দিতেই হবে।

ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান- 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পরিষ্কারভাবে বলতে চায়—

আমরা ঐক্যের পক্ষে,

আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও সম্মানজনক সমঝোতার পক্ষে,

আমরা ইসলামী রাজনীতিকে একক মালিকানায় পরিণত করার বিপক্ষে,

ইসলামী আন্দোলন কারও করুণা বা দয়ার রাজনীতি করে না। আমাদের রাজনীতি ইসলাম,দেশ ও মানবতার কল্যাণে। আগেও ছিল আগামীতেও থাকবে,ইনশাআল্লাহ। 

আমাদের আজকের এ সংবাদ সম্মেলনে আসায় আপনাদের প্রতি আন্তরিক মুবারকবাদ জানাই। আমরা আশা করি আপনারা আমাদের পাশে সবসময়ই থাকবেন,ধন্যবাদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ এর বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।