বাংলাদেশ ও ভারত পারস্পরিক স্বার্থ এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
বুধবার (২৯ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি ছিল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। তাই কোনো নির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থ ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বলেন, সরকার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর আরও কয়েকটি বিদেশ সফরের আমন্ত্রণ এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
সম্প্রতি ফিলিপাইনের ম্যানিলায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, উভয় দেশই আগামী দিনে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আশাবাদী।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি অনুসন্ধানমূলক সফর। তিনি বাংলাদেশের অগ্রাধিকার, বিভিন্ন অংশীজনের মতামত এবং রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেবেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান বলেন, একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতির বিনিময়ে নয়। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায়।
অন্যদিকে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বৈঠককে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সংস্কৃতি, সংগীত, ক্রীড়া এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।