বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ফেনী সীমান্তে ভারতীয় মোবাইল নেটওয়ার্কের দাপট

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলা ফেনী। জেলার সীমান্তবর্তী তিনটি উপজেলা—পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে ভারতীয় বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানির সিমকার্ড। শুধু সীমান্ত এলাকায় নয়, এমন সিম ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে খোদ ফেনী শহরেও। অর্থাৎ ভারতীয় মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে ফেনী সদরসহ চার উপজেলার বিশাল এলাকা। চোরাকারবারিদের সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কে ব্যবহার […]

ফেনী সীমান্তে ভারতীয় মোবাইল নেটওয়ার্কের দাপট

ফেনী সীমান্তে ভারতীয় মোবাইল নেটওয়ার্কের দাপট

নিউজ ডেস্ক

০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৬

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলা ফেনী। জেলার সীমান্তবর্তী তিনটি উপজেলা—পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে ভারতীয় বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানির সিমকার্ড।

শুধু সীমান্ত এলাকায় নয়, এমন সিম ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে খোদ ফেনী শহরেও। অর্থাৎ ভারতীয় মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে ফেনী সদরসহ চার উপজেলার বিশাল এলাকা। চোরাকারবারিদের সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কে ব্যবহার হচ্ছে ভারতীয় সিমকার্ড। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের সিমকার্ড ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার প্রবণতাও লক্ষ করা গেছে।

সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছাগলনাইয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন শুভপুর ও মহামায়া, ফুলগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী সদর ইউনিয়ন, আমজাদহাট, আনন্দপুর, মুন্সীরহাট এবং পরশুরাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন চিথলিয়া, বক্সমাহমুদ ও মির্জানগরের বিভিন্ন গ্রামে ভারতীয় সিমকার্ড ব্যবহার করে নির্বিবাদে ইন্টারনেট চালাচ্ছেন গ্রাহকরা।

সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী তরুণদের দাবি, দেশীয় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ায় ইন্টারনেট সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তারা ভারতীয় সিমকার্ড ব্যবহার করেন। তারা গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারসহ ইন্টারনেটভিত্তিক ফ্রি-ফায়ার, পাবজির মতো গেমও খেলছেন। তারা তাদের মোবাইল ফোনে ব্যবহার করেন ভারতীয় কোম্পানি এয়ারটেল, জিও, ভোডাফোন, রিলায়েন্সসহ বিভিন্ন কোম্পানির সিম।

ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘ইতিপূর্বে আমরা ভারতীয় সিমকার্ডের বিষয়ে প্রশাসনকে জানিয়েছি। এটি আমাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। আমরা এর প্রতিকার চাই।’

পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মনির চেয়ারম্যান বলেন, এসব সিম ব্যবহারকারীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি। ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলমগীর বিএ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জন্য সুখকর নয়। এই সিমগুলো অসাধু লোকেরা ব্যবহার করে দেশকে বিপদে ফেলতে চাইছে। আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সীমান্তবর্তী আমজাদহাট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির ইব্রাহিম মজুমদার বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ভারতীয় সিম ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী শাখার সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসাইন জানান, ভিনদেশি সিম একটি রাষ্ট্রের গোপনীয়তার জন্য হুমকিস্বরূপ। বিষয়টি উদ্বেগজনক।

এ প্রসঙ্গে সীমান্তের চেতনা সংঘ ক্লাবের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম রাজিব বলেন, ভারতীয় সিমের অবাধ ব্যবহারের কারণে সীমান্তের ওপারে ভারতীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বাংলাদেশের চোরাকারবারি ও মানব পাচারকারীরা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। তারা মাদক পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। এতে করে সীমান্ত অঞ্চলে অপরাধপ্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। টাকার লোভে কিশোর, যুবক ও বৃদ্ধরা জড়িয়ে পড়ছেন অবৈধ কারবারে।

চোরাকারবারি চক্রের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভারতীয় সিমকার্ডগুলো ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা দামে বিক্রি করি। ইদানীং এর বিক্রি বেড়েছে। সীমান্তের অধিকাংশ মানুষ এখন ভারতীয় সিমকার্ড ব্যবহার করছে। এগুলোর রিচার্জও আমরা বাংলাদেশে বসে দিতে পারি।’

ফুলগাজী থানার ওসি এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি সদ্য যোগদান করেছি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাইনি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। ইতিপূর্বে কাউকে ভারতীয় সিমসহ আটক করা হয়নি।’

পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সিমসহ কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।’

ছাগলনাইয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এ রকম কোনো অভিযোগ আসেনি। ভারতীয় সিমসহ কাউকে আটক করা হয়নি।’

জেলা পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ‘ভারতীয় সিমের বিষয়টি আমরা আগেও জেনেছি। এটি একটি জাতীয় ইস্যু। আমরা আমাদের মাধ্যমে সরকারকে বিষয়টি জানানোর চেষ্টা করব।’

জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, ‘এখন পর্যন্ত আমরা এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। যদি এ রকম কোনো সিমকার্ড পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।