শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
একমাত্র আয়ের সম্বল ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকটি ছিনতাইয়ের পর কোনো সাক্ষী না রাখতেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল ১১ বছরের শিশু রাজু হোসেনকে। চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ২২ ঘণ্টার ঝটিকা অভিযানে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
ঘটনার মূল দুই আসামিকে গ্রেফতার, আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ এবং ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধারে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখায় বগুড়ার শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদীনকে বিশেষ অর্থ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।
যেভাবে ঘটেছিল নির্মম এই হত্যাকাণ্ড:
পুলিশের তদন্ত ও আসামিদের স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট দুপুরে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকসহ নিখোঁজ হয় শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের ররোয়া গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে রাজু। রাজুর প্রতিবেশী মোস্তাকিম কৌশলে তাকে ভুল বুঝিয়ে ইজিবাইকসহ মির্জাপুর রানীরহাট মোড়ে নিয়ে যায়। সেখানে চোরাই মালামাল ও ভাঙরি ব্যবসায়ী করিমের কাছে ইজিবাইকটি বিক্রি করে দেওয়া হয়।
বিক্রি শেষে করিম ও মোস্তাকিম আড়ালে পরামর্শ করে রাজু বাড়ি ফিরে সব বলে দিলে তারা দুজনেই ফেঁসে যাবে। চুরির ঘটনা গোপন রাখা ও কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী না রাখার উদ্দেশ্যে দুজন মিলে নিষ্পাপ শিশু রাজুকে নির্মমভাবে হত্যা করে। নিখোঁজের দুদিন পর, ৬ আগস্ট বিকেলে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গাবরগাড়ী এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রযুক্তির ব্যবহারে কুপোকাত অপরাধীরা:
শিশু নিখোঁজের পর রাজুর বাবা আলম মিয়া শেরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে অভিযানে নামে পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ এলাকা থেকে প্রথমে মূল অভিযুক্ত মোস্তাকিমকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই ইজিবাইকসহ গ্রেফতার করা হয় ক্রেতা করিমকে। গ্রেফতারের পর আসামিরা পুলিশের কাছে ও পরবর্তীতে আদালতে নিজেদের দায় স্বীকার করে রোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।
দ্রুততম সময়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই হত্যা মামলার জট খোলা ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করায় শেরপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জয়নুল আবেদীনের পেশাদারত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন ডিআইজি মোঃ আশিক সাঈদ।