মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের জন্য কৃষিসেবা আরও সহজলভ্য করতে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে মুন্সীগঞ্জ জেলার ছয়টি উপজেলার ১০ হাজার ৭২১ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ৪ হাজার ৯১২ জন কৃষক কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক প্রণোদনা পাবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয়টি উপজেলা থেকে মোট ১০ হাজার ৭২১ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরে ১ হাজার ৬১৮ জন, টঙ্গিবাড়ীতে ১ হাজার ২৫৫ জন, শ্রীনগরে ১ হাজার ৮৭৪ জন, সিরাজদিখানে ২ হাজার ১০৯ জন, লৌহজংয়ে ১ হাজার ৭৭৪ জন এবং গজারিয়ায় ২ হাজার ৯১ জন কৃষক রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিন প্রথম পর্যায়ে জেলার ৪ হাজার ৯১২ জন কৃষক কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক প্রণোদনা পাবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, কৃষকের উন্নয়নে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সব ধরনের কৃষিসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কৃষকদের কৃষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ জেলায় সম্ভাব্য কৃষক কার্ডের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৯ জন। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ৭২১ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
কৃষক কার্ডের আওতায় প্রতিজন কৃষক নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে অর্থ সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি এই কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ কেনার সুযোগ, কৃষি প্রণোদনা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং কৃষি বীমার সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
সরকার চলতি অর্থবছরে সারাদেশে ৪৩ লাখ কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি কৃষিসেবা একই ব্যবস্থার আওতায় আনতে কৃষক কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।