মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
বর্ষা এলেই পানির নিচে তলিয়ে যায় বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ। বছরের প্রায় আট মাসই মাঠটির বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে থাকায় সেখানে খেলাধুলা ও অনুশীলনের সুযোগ থাকে না। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি এলাকার কিশোর-তরুণেরাও খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি উঁচু করে সারা বছর ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়ে এলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পুরা দুর্গাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পুরা দুর্গাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে একটি জনসভায় অংশ নেন। ওই সময় তিনি মাঠটি সড়কের সমান উঁচু করে ভরাট করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতির পর দুই যুগেরও বেশি সময় পার হলেও মাঠটি উঁচু করে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি জমে মাঠটি দীর্ঘ সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জমে থাকা পানি সহজে সরে যেতে পারে না। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এর প্রভাব পড়ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলা ও অনুশীলনেও। পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার প্রয়োজন থাকলেও মাঠের জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে রয়েছে। মাঠের চারপাশেও পানি জমে আছে। পানিতে তলিয়ে থাকা মাঠে খেলাধুলার কোনো পরিবেশ নেই। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় একই চিত্র দেখা যায়।
যশলং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য ঢালী মোহাম্মদ ওয়াহিদ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে পানিতে ডুবে আছে। ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই মাঠে জনসভায় এসে মাঠটি সড়কের সমান করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত এর কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের খেলাধুলার জন্য মাঠটি ভরাট করা খুবই জরুরি।’
বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে কিশোর-তরুণদের মাদক, জুয়া ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। কিন্তু মাঠটি বছরের দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকায় নিয়মিত খেলাধুলা ও অনুশীলন ব্যাহত হচ্ছে।
পুরা দুর্গাচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও ভালো। বিভিন্ন খেলায় তারা অংশ নেয় এবং উপজেলা পর্যায়ে একাধিকবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। কিন্তু মাঠটি পানিতে ডুবে থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলার অনুশীলন করানো সম্ভব হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঠের বিষয়টি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা চাই, যত দ্রুত সম্ভব মাঠটি উঁচু করে সারা বছর খেলাধুলার উপযোগী করে দেওয়া হোক।’
মাঠটির পুরোনো সমস্যার কথা তুলে ধরে কামরুল হাসান বলেন, ‘প্রায় দুই যুগ আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি সড়কের সমান উঁচু করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত মাঠটি উঁচু করা হয়নি।’
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাঠটি ভরাটের দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, মাঠটি ভরাট করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য সারা বছর ব্যবহারের উপযোগী করা হোক।
স্থানীয়দের মতে, একটি বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ শুধু শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার স্থান নয়; এটি এলাকার কিশোর-তরুণদের সুস্থ বিনোদন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেরও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকার কারণে সেই সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। তাই মাঠটির স্থায়ী সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিমা আনজুম সোহানিয়া বলেন, ‘আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখব। মাঠের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।