মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মনির হোসেন (২৭) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটক মনির ওই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলামের ছেলে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়ি থেকে মনির হোসেনকে আটক করা হয়। মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সুপার জানান, মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই রাতে বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দেরচর লেকু মার্কেট এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে কার্যালয়ের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ঘটনায় ২২ জুলাই যুবদল কর্মী আবদুস সালাম বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। এরপর ঘটনাটি তদন্তে নামে পুলিশ।
তদন্তে নেমে একই দিন নাহিদ হাসান (২৩) ও ওসমান গনি (২৪) নামে দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মনির হোসেনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরপর মঙ্গলবার রাতে মনির হোসেনকে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অগ্নিসংযোগে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। বুধবার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
মনির হোসেনের বাবা ও বালুচর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কারো ইন্ধনে হয়তো এরকম কাজ করেছে। তবে কী কারণে করেছে, তা পুলিশ বলতে পারবে।’
বালুচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হোসেন বলেন, ‘কারো ইন্ধনে হয়তোবা এমন কাজটি করেছে। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক, রাজনৈতিক কার্যালয় কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ মেটানোর জায়গা নয়। ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে সমাধান করা উচিত।’
বালুচর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি আমি অবগত আছি। তবে বিএনপি নেতার ছেলে হোক বা অন্য কেউ, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য অপরাধীর শাস্তি হওয়া উচিত।’