সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
চলতি আমন মৌসুমের শুরুতেই তীব্র সার সংকটের আশঙ্কায় এবং সরকার নির্ধারিত ন্যায্য মূল্যে চাহিদামতো সার পাওয়ার দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার কৃষক।
সোমবার সকালে জেলার কালীগঞ্জ বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা। টানা ২ ঘণ্টা অবরোধ চলার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সার সরবরাহের আশ্বাস পেয়ে কৃষকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, লালমনিরহাট জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৮৫,০০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার জন্য গড়ে ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা রয়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, ভরা মৌসুমে চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সার পাওয়া যাচ্ছে না।
প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক তপু সিংহ (৩৫) ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে প্রায় ২,০০০ থেকে ৩,০০০ কৃষক আমন চাষের সার সংগ্রহ করতে স্থানীয় বিসিআইসি ডিলার ‘মাধু ভট্টাচার্য্য ডিলার পয়েন্টে’ জড়ো হন। সেখানে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদার ৫০ শতাংশ সারও পাননি অধিকাংশ কৃষক।
চাহিদামতো সার না দিয়ে ডিলার পয়েন্ট থেকে চাষিদের ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। সার না পেলে আমন উৎপাদনে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় প্রান্তে প্রায় ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার জুড়ে কয়েক শ দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম। তিনি বিক্ষুব্ধ কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আগামী ৪৮ ঘণ্টার (২ দিন) মধ্যে ডিলার পয়েন্টগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত সার সরবরাহের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পর কৃষকেরা সরে দাঁড়ালে সকাল ১১টার দিকে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জানান, “কৃষকদের সারের ঘাটতি ও ক্ষোভের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি। আগামী ২ দিনের মধ্যে উপজেলার সকল বিসিআইসি পয়েন্টে পর্যাপ্ত সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া কোনো ডিলার যদি সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেয়, তবে তার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”