শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

রক্তে লেখা জুলাই: মুন্সীগঞ্জের ১৬ শহীদের অসমাপ্ত স্বপ্নের গল্প

আলী আক্কাস মুন্সীগঞ্জ কেউ বেরিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে। কেউ কর্মস্থল থেকে ছুটে গিয়েছিলেন রাজপথে। কেউ আবার নিজের সন্তানকে খুঁজতে গিয়ে আর ঘরে ফেরেননি। কেউ ভাতের থালা অসমাপ্ত রেখে ছুটেছিলেন গুলির মুখে। বয়স, পেশা, পরিচয়—সবকিছু আলাদা হলেও তাঁদের শেষ ঠিকানা একটিই—জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত ইতিহাস। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন জেলার মতো মুন্সীগঞ্জও দিয়েছে আত্মত্যাগের উজ্জ্বল […]

রক্তে লেখা জুলাই: মুন্সীগঞ্জের ১৬ শহীদের অসমাপ্ত স্বপ্নের গল্প

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৫২

আলী আক্কাস মুন্সীগঞ্জ

কেউ বেরিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে। কেউ কর্মস্থল থেকে ছুটে গিয়েছিলেন রাজপথে। কেউ আবার নিজের সন্তানকে খুঁজতে গিয়ে আর ঘরে ফেরেননি। কেউ ভাতের থালা অসমাপ্ত রেখে ছুটেছিলেন গুলির মুখে। বয়স, পেশা, পরিচয়—সবকিছু আলাদা হলেও তাঁদের শেষ ঠিকানা একটিই—জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত ইতিহাস।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন জেলার মতো মুন্সীগঞ্জও দিয়েছে আত্মত্যাগের উজ্জ্বল নজির। জেলার অন্তত ১৬ জন মানুষ জীবন দিয়েছেন। তাঁদের কেউ ছিলেন শিক্ষার্থী, কেউ শ্রমিক, কেউ দিনমজুর, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চাকরিজীবী, কেউ প্রবাসফেরত, আবার কেউ রাজনৈতিক কর্মী। প্রতিটি মৃত্যুর সঙ্গে থেমে গেছে একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিভে গেছে একটি জীবনের সম্ভাবনা।

শ্রীনগরের উত্তর কোলাপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলাম শোভন ছিলেন মাত্র ১৯ বছরের এক তরুণ। শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের এই শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। ১৯ জুলাই ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের সময় তিনি ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। পরে তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় নামকরণ করা হয় “বীর শহীদ শোভন চত্বর”।

একই দিনে উত্তরার রাজপথে প্রাণ হারান শ্রীনগরের কাশেমনগরের আল আমিন খলিফা। মাত্র ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ বড় ভাইয়ের সঙ্গে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। রংপুরে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড তাঁকে আন্দোলনে নামতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। উত্তরায় পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলেও আর ফিরে আসেননি।

লৌহজংয়ের কুমারভোগ ইউনিয়নের মৌছা গ্রামের রাকিব হোসেন ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। আন্দোলনে একের পর এক প্রাণহানির খবর দেখে মাকে বলেছিলেন, “সব মানুষ মাইরা ফেলতাছে, আমাকে যাইতে হবে।” সেই যাওয়াই ছিল তাঁর শেষ যাত্রা। আফতাবনগরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন তিনি।

একই উপজেলার ঘোড়দৌড় গ্রামের সোহেল রানা ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ির দক্ষিণ কাজলা এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ ৩৪ দিন পর পরিবার জানতে পারে, নির্যাতনের পর তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রথমে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হলেও পরে তাঁর কবরের সন্ধান পায় পরিবার।

গজারিয়ার বড় রায়পাড়ার মেহেদী হাসানের স্বপ্ন ছিল প্রকৌশলী হওয়ার। ফুটবল খেলতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি আন্দোলনে যোগ দেন। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় গুলিতে নিহত হন। মৃত্যুর পর প্রকাশিত ফলাফলে জানা যায়, ডিপ্লোমা পরীক্ষায় তিনি ৪-এর মধ্যে ৩.৪২ জিপিএ অর্জন করেছিলেন।

মিরকাদিম পৌরসভার রামগোপালপুর এলাকার ছাত্রদল নেতা শারিক চৌধুরী মানিক ৫ আগস্ট “মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চানখারপুলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। বিজয়ের দিনটি তিনি দেখে যেতে পারেননি, তবে তাঁর কফিন জড়িয়ে ছিল লাল-সবুজের পতাকা।

মুন্সীগঞ্জ সদরের সুখবাসপুর গ্রামের ফরিদ শেখ দীর্ঘ সংগ্রামের পর কলার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ৪ আগস্ট যাত্রাবাড়িতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ৬ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শ্রীনগরের শ্যামসিদ্ধির আক্কাস আলী ছেলেকে খুঁজতে বের হয়েছিলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া সন্তান ফিরলেও বাবা আর ঘরে ফেরেননি। যাত্রাবাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

সিরাজদিখানের মধ্যপাড়ার এসএসসি পরীক্ষার্থী মোস্তাফা জামান সমুদ্র জুমার নামাজের কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর গন্তব্য ছিল আন্দোলনের মিছিল। রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তাঁর। পরে রাতের আঁধারে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

লৌহজংয়ের কুমারভোগের মেহেদী হাসান প্রান্তের স্বপ্ন ছিল জাপানে পড়াশোনা করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নিয়ে ১৯ জুলাই কদমতলীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। মৃত্যুর পর দাফন নিয়েও পরিবারকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়।

গাওদিয়ার বাবুল হাওলাদার দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই আন্দোলনে নেমেছিলেন। রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নয় দিন চিকিৎসাধীন থেকে ২৮ জুলাই তিনি মারা যান।

মাত্র ১৬ বছর বয়সী আশরাফুল ইসলাম অন্তর ছিলেন মায়ের একমাত্র সন্তান। ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ি থানার সামনে বিজয় মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। দুই দিন পর ঢাকা মেডিকেলে তাঁর মরদেহ শনাক্ত করে পরিবার।

গজারিয়ার ইমামপুর গ্রামের মুজিবুর রহমান সরকার দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে আন্দোলনের সময় কদমতলী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার হারায় তাদের একমাত্র অভিভাবককে।

মুন্সীগঞ্জ শহরের সেই রক্তাক্ত ৪ আগস্ট

৪ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ শহরও প্রত্যক্ষ করে ভয়াবহ সহিংসতা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ডাকে সকাল ১০টায় ইসলামপুর ও ইদ্রাকপুর মোড় থেকে ছাত্র-জনতার মিছিল বের হওয়ার পর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ শুরু হয়।

কৃষি ব্যাংক এলাকা থেকে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও মানিকপুর সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা চলে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণ। হাসপাতাল ও মুক্তারপুর এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে হামলার অভিযোগও ওঠে। আহত হন অসংখ্য মানুষ।

সেদিন শহীদ হন ইসলামপুর এলাকার নূর মোহাম্মদ সরদার (ডিপজল-১৭), রিয়াজুল ফরাজী (৩৫) এবং মো. সজল।

কিশোর ডিপজল প্রথম গুলিতেই প্রাণ হারান। এরপর নিহত হন দিনমজুর রিয়াজুল ফরাজী। তাঁর মৃত্যুতে দুই কন্যাসন্তান পিতৃহারা হয়।

শ্রমিক সজলের আত্মত্যাগ আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে আছে। ভাইয়ের সঙ্গে ভাত খাওয়ার সময় গুলির শব্দ শুনে তিনি খাবার অসমাপ্ত রেখেই বাইরে ছুটে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বের হওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, “হয় আজকে শহীদ হমু, নয় স্বাধীন।” প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ছাত্র-জনতাকে রক্ষা করতে তিনি দুই হাত প্রসারিত করে সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি শহীদ হন।

সাত ঘণ্টার সংঘর্ষ শেষে শহরের রাজপথজুড়ে পড়ে ছিল ইট-পাটকেল, গুলির খোসা ও রক্তের দাগ। পরে ছাত্র-জনতা সুপারমার্কেট চত্বরের নাম দেয় “শহীদ চত্বর”।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মুন্সীগঞ্জের ১৬ শহীদের আত্মত্যাগ কেবল একটি জেলার ইতিহাস নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের অসমাপ্ত স্বপ্ন, স্বজনদের অশ্রু এবং আত্মত্যাগ সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়ে জাতির স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।

সারাদেশ

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি […]

আইফোনের জন্য কুবি শিক্ষকের ছেলে অপ্রতীমকে হত্যা, আটক ১

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৩৪

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কসংলগ্ন একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতীম আর ফেরেনি। পরিবারের অজান্তে সে তার মায়ের একটি আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল। দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তার মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের নিখোঁজের তথ্য জানালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরের জঙ্গলে পাঞ্জাবি পরা অপ্রতীমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।

পরিবারের দাবি, মায়ের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত করছে পুলিশ।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের জন্যই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা অনেকটা নিশ্চিত।’ আটক তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপ্রতীমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।