বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

রক্তে লেখা জুলাই: মুন্সীগঞ্জের ১৬ শহীদের অসমাপ্ত স্বপ্নের গল্প

আলী আক্কাস মুন্সীগঞ্জ কেউ বেরিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে। কেউ কর্মস্থল থেকে ছুটে গিয়েছিলেন রাজপথে। কেউ আবার নিজের সন্তানকে খুঁজতে গিয়ে আর ঘরে ফেরেননি। কেউ ভাতের থালা অসমাপ্ত রেখে ছুটেছিলেন গুলির মুখে। বয়স, পেশা, পরিচয়—সবকিছু আলাদা হলেও তাঁদের শেষ ঠিকানা একটিই—জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত ইতিহাস। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন জেলার মতো মুন্সীগঞ্জও দিয়েছে আত্মত্যাগের উজ্জ্বল […]

রক্তে লেখা জুলাই: মুন্সীগঞ্জের ১৬ শহীদের অসমাপ্ত স্বপ্নের গল্প

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৫২

আলী আক্কাস মুন্সীগঞ্জ

কেউ বেরিয়েছিলেন উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে। কেউ কর্মস্থল থেকে ছুটে গিয়েছিলেন রাজপথে। কেউ আবার নিজের সন্তানকে খুঁজতে গিয়ে আর ঘরে ফেরেননি। কেউ ভাতের থালা অসমাপ্ত রেখে ছুটেছিলেন গুলির মুখে। বয়স, পেশা, পরিচয়—সবকিছু আলাদা হলেও তাঁদের শেষ ঠিকানা একটিই—জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত ইতিহাস।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন জেলার মতো মুন্সীগঞ্জও দিয়েছে আত্মত্যাগের উজ্জ্বল নজির। জেলার অন্তত ১৬ জন মানুষ জীবন দিয়েছেন। তাঁদের কেউ ছিলেন শিক্ষার্থী, কেউ শ্রমিক, কেউ দিনমজুর, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চাকরিজীবী, কেউ প্রবাসফেরত, আবার কেউ রাজনৈতিক কর্মী। প্রতিটি মৃত্যুর সঙ্গে থেমে গেছে একটি পরিবারের স্বপ্ন, নিভে গেছে একটি জীবনের সম্ভাবনা।

শ্রীনগরের উত্তর কোলাপাড়া গ্রামের সাইদুল ইসলাম শোভন ছিলেন মাত্র ১৯ বছরের এক তরুণ। শেখ বোরহানউদ্দিন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের এই শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন। ১৯ জুলাই ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের সময় তিনি ঘটনাস্থলেই শহীদ হন। পরে তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় নামকরণ করা হয় “বীর শহীদ শোভন চত্বর”।

একই দিনে উত্তরার রাজপথে প্রাণ হারান শ্রীনগরের কাশেমনগরের আল আমিন খলিফা। মাত্র ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ বড় ভাইয়ের সঙ্গে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। রংপুরে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড তাঁকে আন্দোলনে নামতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। উত্তরায় পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলেও আর ফিরে আসেননি।

লৌহজংয়ের কুমারভোগ ইউনিয়নের মৌছা গ্রামের রাকিব হোসেন ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। আন্দোলনে একের পর এক প্রাণহানির খবর দেখে মাকে বলেছিলেন, “সব মানুষ মাইরা ফেলতাছে, আমাকে যাইতে হবে।” সেই যাওয়াই ছিল তাঁর শেষ যাত্রা। আফতাবনগরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন তিনি।

একই উপজেলার ঘোড়দৌড় গ্রামের সোহেল রানা ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ির দক্ষিণ কাজলা এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ ৩৪ দিন পর পরিবার জানতে পারে, নির্যাতনের পর তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। প্রথমে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হলেও পরে তাঁর কবরের সন্ধান পায় পরিবার।

গজারিয়ার বড় রায়পাড়ার মেহেদী হাসানের স্বপ্ন ছিল প্রকৌশলী হওয়ার। ফুটবল খেলতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি আন্দোলনে যোগ দেন। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় গুলিতে নিহত হন। মৃত্যুর পর প্রকাশিত ফলাফলে জানা যায়, ডিপ্লোমা পরীক্ষায় তিনি ৪-এর মধ্যে ৩.৪২ জিপিএ অর্জন করেছিলেন।

মিরকাদিম পৌরসভার রামগোপালপুর এলাকার ছাত্রদল নেতা শারিক চৌধুরী মানিক ৫ আগস্ট “মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চানখারপুলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। বিজয়ের দিনটি তিনি দেখে যেতে পারেননি, তবে তাঁর কফিন জড়িয়ে ছিল লাল-সবুজের পতাকা।

মুন্সীগঞ্জ সদরের সুখবাসপুর গ্রামের ফরিদ শেখ দীর্ঘ সংগ্রামের পর কলার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ৪ আগস্ট যাত্রাবাড়িতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ৬ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শ্রীনগরের শ্যামসিদ্ধির আক্কাস আলী ছেলেকে খুঁজতে বের হয়েছিলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া সন্তান ফিরলেও বাবা আর ঘরে ফেরেননি। যাত্রাবাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

সিরাজদিখানের মধ্যপাড়ার এসএসসি পরীক্ষার্থী মোস্তাফা জামান সমুদ্র জুমার নামাজের কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর গন্তব্য ছিল আন্দোলনের মিছিল। রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তাঁর। পরে রাতের আঁধারে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

লৌহজংয়ের কুমারভোগের মেহেদী হাসান প্রান্তের স্বপ্ন ছিল জাপানে পড়াশোনা করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আন্দোলনে অংশ নিয়ে ১৯ জুলাই কদমতলীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। মৃত্যুর পর দাফন নিয়েও পরিবারকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়।

গাওদিয়ার বাবুল হাওলাদার দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই আন্দোলনে নেমেছিলেন। রামপুরায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নয় দিন চিকিৎসাধীন থেকে ২৮ জুলাই তিনি মারা যান।

মাত্র ১৬ বছর বয়সী আশরাফুল ইসলাম অন্তর ছিলেন মায়ের একমাত্র সন্তান। ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ি থানার সামনে বিজয় মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন। দুই দিন পর ঢাকা মেডিকেলে তাঁর মরদেহ শনাক্ত করে পরিবার।

গজারিয়ার ইমামপুর গ্রামের মুজিবুর রহমান সরকার দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে আন্দোলনের সময় কদমতলী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার হারায় তাদের একমাত্র অভিভাবককে।

মুন্সীগঞ্জ শহরের সেই রক্তাক্ত ৪ আগস্ট

৪ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ শহরও প্রত্যক্ষ করে ভয়াবহ সহিংসতা। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ডাকে সকাল ১০টায় ইসলামপুর ও ইদ্রাকপুর মোড় থেকে ছাত্র-জনতার মিছিল বের হওয়ার পর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ শুরু হয়।

কৃষি ব্যাংক এলাকা থেকে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড ও মানিকপুর সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা সাত ঘণ্টা চলে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণ। হাসপাতাল ও মুক্তারপুর এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে হামলার অভিযোগও ওঠে। আহত হন অসংখ্য মানুষ।

সেদিন শহীদ হন ইসলামপুর এলাকার নূর মোহাম্মদ সরদার (ডিপজল-১৭), রিয়াজুল ফরাজী (৩৫) এবং মো. সজল।

কিশোর ডিপজল প্রথম গুলিতেই প্রাণ হারান। এরপর নিহত হন দিনমজুর রিয়াজুল ফরাজী। তাঁর মৃত্যুতে দুই কন্যাসন্তান পিতৃহারা হয়।

শ্রমিক সজলের আত্মত্যাগ আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে আছে। ভাইয়ের সঙ্গে ভাত খাওয়ার সময় গুলির শব্দ শুনে তিনি খাবার অসমাপ্ত রেখেই বাইরে ছুটে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বের হওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, “হয় আজকে শহীদ হমু, নয় স্বাধীন।” প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ছাত্র-জনতাকে রক্ষা করতে তিনি দুই হাত প্রসারিত করে সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি শহীদ হন।

সাত ঘণ্টার সংঘর্ষ শেষে শহরের রাজপথজুড়ে পড়ে ছিল ইট-পাটকেল, গুলির খোসা ও রক্তের দাগ। পরে ছাত্র-জনতা সুপারমার্কেট চত্বরের নাম দেয় “শহীদ চত্বর”।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মুন্সীগঞ্জের ১৬ শহীদের আত্মত্যাগ কেবল একটি জেলার ইতিহাস নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের অসমাপ্ত স্বপ্ন, স্বজনদের অশ্রু এবং আত্মত্যাগ সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়ে জাতির স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।