রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মুন্সীগঞ্জের বীজতলায় শীতের আগাম প্রস্তুতি, চারা বিক্রিতে ৮ কোটি টাকার বাণিজ্য

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: শীত আসতে এখনো সময় আছে। কিন্তু শীতকালীন সবজির চাষের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে মুন্সীগঞ্জে। মাঠে সবজির চাষ শুরুর আগেই জেলার বিভিন্ন বীজতলায় তৈরি হচ্ছে আগাম সবজির চারা। কৃষকেরা ব্যস্ত বীজ বোনা, চারা পরিচর্যা, পানি দেওয়া ও বিক্রির প্রস্তুতিতে। এই চারার ওপর ভর করেই প্রতি মৌসুমে জমে ওঠে কোটি টাকার বাণিজ্য। বীজতলা প্রস্তুতকারী কৃষকদের […]

মুন্সীগঞ্জের বীজতলায় শীতের আগাম প্রস্তুতি, চারা বিক্রিতে ৮ কোটি টাকার বাণিজ্য

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৩৫

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

শীত আসতে এখনো সময় আছে। কিন্তু শীতকালীন সবজির চাষের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে মুন্সীগঞ্জে। মাঠে সবজির চাষ শুরুর আগেই জেলার বিভিন্ন বীজতলায় তৈরি হচ্ছে আগাম সবজির চারা। কৃষকেরা ব্যস্ত বীজ বোনা, চারা পরিচর্যা, পানি দেওয়া ও বিক্রির প্রস্তুতিতে।

এই চারার ওপর ভর করেই প্রতি মৌসুমে জমে ওঠে কোটি টাকার বাণিজ্য। বীজতলা প্রস্তুতকারী কৃষকদের হিসাবে, তিন থেকে চার মাসের মৌসুমে প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়। মুন্সীগঞ্জের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এসব চারা চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষকদের কাছে।

সদর উপজেলার পঞ্চসার, বজ্রযোগিনী ও রামপাল এলাকায় গড়ে উঠেছে ছোট-বড় দেড় শতাধিক চারা উৎপাদনের প্রকল্প। এর সিংহভাগই পঞ্চসার এলাকায়। আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় চারা উৎপাদন। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে শুরু হয় বিক্রির ধুম, যা তিন থেকে চার দফায় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে।

বীজতলায় ব্যস্ততার দৃশ্য

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পঞ্চসার ইউনিয়নের ভট্টাচার্যেরবাগ, কেপিবাগ ও সিকদার বাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বীজতলা বাঁশের চাটাই দিয়ে ঢাকা। চাটাইয়ের নিচে সারিবদ্ধ বীজতলায় বেড়ে উঠছে টমেটো, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও মরিচের চারা।

কোনো বীজতলায় চাটাই সরিয়ে পানি দিচ্ছেন কৃষক। কোথাও চলছে আগাছা পরিষ্কার। আবার কেউ ব্যস্ত নতুন বীজতলা তৈরিতে।

চারাগুলোকে অতিরিক্ত রোদ ও বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে বাঁশের চাটাই ব্যবহার করা হয়। সকালে ও বিকেলে চাটাই সরিয়ে চারায় রোদ লাগানো হয়। আর দুপুর ও বৃষ্টির সময় বীজতলা ঢেকে রাখা হয়।

৫০ শতকে ৫০ বীজতলা

সিকদার বাড়ি এলাকার চারা চাষি আতিক হাসান বলেন, তাঁদের ৫০ শতক জমিতে প্রায় ৫০টি বীজতলা রয়েছে। এক মৌসুমে প্রতিটি বীজতলায় তিন দফায় চারা উৎপাদন করা হয়। প্রতিটি বীজতলার এক দফার চারা কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

তাঁর হিসাবে, সব মিলিয়ে প্রতি মৌসুমে তাঁদের বীজতলা থেকে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়।

আতিক হাসান বলেন, চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কৃষকেরা মোটামুটি একই ধরনের দামে চারা বিক্রি করেন। তবে ভালো জাতের ও মানসম্মত চারার চাহিদা বেশি থাকায় বিক্রিও ভালো হয়।

জেলার সীমানা ছাড়িয়েছে চাহিদা

মুন্সীগঞ্জের চারা এখন জেলার বাইরেও পরিচিত। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর এসব চারা যাচ্ছে সাভার, মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, রংপুর, সিলেট, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা ও চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

চারা ব্যবসায়ী লিটন শিকদার বলেন, মুন্সীগঞ্জের বীজতলায় উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করা হয়। এক কেজি বীজের দাম এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। এসব বীজ থেকে উৎপাদিত চারা দিয়ে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। এ কারণেই বিভিন্ন জেলায় মুন্সীগঞ্জের চারার চাহিদা রয়েছে।

তবে প্রতিবছর লাভের পরিমাণ এক থাকে না। লিটন শিকদার বলেন, প্রতি মৌসুমে ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার চারা বিক্রি হয়। কোনো বছর খরচ বাদ দিয়ে ভালো লাভ হয়, আবার কোনো বছর লাভ কমে যায়। তারপরও বংশপরম্পরায় তাঁরা এ ব্যবসা ধরে রেখেছেন।

স্বাধীনতার আগে শুরু

চারা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত অন্তত ১০ জন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাধীনতার আগে থেকেই মুন্সীগঞ্জে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি হয়ে আসছে।

তখন অল্প পরিমাণে চারা উৎপাদন করা হতো। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশের দু-একটি জেলায় এসব চারা বিক্রি করা হতো। প্রায় দুই যুগ ধরে ধীরে ধীরে এ ব্যবসার প্রসার ঘটে।

কৃষকেরা খৈল, জৈবসার ও পরিমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার করে উন্নত জাতের চারা উৎপাদন শুরু করেন। একপর্যায়ে মুন্সীগঞ্জের চারার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

চারার আয়েই চলে সংসার

কেপিবাগ এলাকার কৃষক স্বপন দেওয়ান বলেন, সবজি উৎপাদনের চেয়ে চারা উৎপাদন তাঁদের কাছে বেশি লাভজনক। প্রতিবছর তিন-চার মাস ব্যাপকভাবে শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করেন তাঁরা। এই সময়ের আয় দিয়েই সারা বছর ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালানো সম্ভব হয়।

তবে এই আয়ের সঙ্গে ঝুঁকিও কম নয়। স্বপন দেওয়ান (৫০) বলেন, গত বছর বৃষ্টির কারণে তাঁদের চারার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে বিক্রিও কমে যায়। ফলে তেমন লাভ হয়নি।

তিনি বলেন, এবারও মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে চারা বিক্রির ধুম শুরু হওয়ার কথা। বৃষ্টি বেশি হলে কৃষকেরা জমিতে সবজি আবাদে দেরি করবেন। তখন বিক্রির উপযোগী অনেক চারা ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

২৫-৩০ দিনেই শেষ করতে হয়

শ্রমিক বাবু দেওয়ান বলেন, চারা উৎপাদনের কাজ বেশ কঠিন। প্রতিটি ধাপ খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। অঙ্কুরিত হওয়ার ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে চারা বিক্রি করতে হয়।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত রোদ ও বৃষ্টি চারা সহ্য করতে পারে না। তাই দুপুর ও বৃষ্টির সময় চাটাই দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখতে হয়। আবার সকালে ও বিকেলে রোদ দেওয়ার জন্য চাটাই সরিয়ে রাখা হয়। পানি দেওয়া ও আগাছা পরিষ্কারের সময়ও খুব সতর্ক থাকতে হয়।

বাড়ছে উৎপাদন খরচ

একই এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম (৮০) বলেন, এবার সার ও বীজের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। এখনো চারা বিক্রি শুরু হয়নি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ব্যাপক লোকসান গুনতে হবে। এ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তাঁরা সরকারের সহযোগিতা চান।

কৃষকদের মতে, চারা উৎপাদনে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা আবহাওয়া। বিশেষ করে মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হলে একদিকে যেমন চারার ক্ষতি হয়, অন্যদিকে বিক্রিও কমে যায়।

বিঘায় আয় ১০ থেকে ১২ লাখ

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সদর উপজেলায় চারা উৎপাদন কৃষকদের জন্য অন্যতম লাভজনক খাতে পরিণত হয়েছে।

পঞ্চসার, রামপাল ও বজ্রযোগিনী ইউনিয়নে ২৫ থেকে ৩০ জন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছেন। তাঁরা শুধু শীতকালেই নয়, সারা বছর উন্নত ও মানসম্মত চারা উৎপাদন করছেন। এসব চারার জন্য বিভিন্ন জেলায় প্রতিষ্ঠিত বাজার রয়েছে এবং চাহিদাও ব্যাপক।

তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বিঘা জমি থেকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করছেন চারা চাষিরা। নিয়মিত চারা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কৃষি বিভাগ সব সময় সহযোগিতা করছে।

ফলে শীতের সবজি মাঠে ওঠার আগেই মুন্সীগঞ্জের বীজতলাগুলোতে তৈরি হচ্ছে সেই সবজির ভবিষ্যৎ। কৃষকের জমিতে আগাম সবজি উৎপাদনের পেছনে এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে জেলার এই চারা উৎপাদনকেন্দ্রগুলো।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সারাদেশ

মধুপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের কলা ও আনারস বাগানের বেহাল অবস্থা

মধুপুর উপজেলার জয়নাগাছা, সোলাকুড়ীসহ আশপাশের এলাকায় ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য কলাগাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনারস, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসলের বাগান। কৃষকদের ভাষ্য, বছরের পর বছর পরিশ্রম আর বিনিয়োগের পর ফলন পাওয়ার সময় এমন ঝড় তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, জীবনের প্রায় অর্ধেক […]

মধুপুরে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে কৃষকের কলা ও আনারস বাগানের বেহাল অবস্থা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২১

মধুপুর উপজেলার জয়নাগাছা, সোলাকুড়ীসহ আশপাশের এলাকায় ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য কলাগাছ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আনারস, পেঁপেসহ বিভিন্ন ফসলের বাগান।

কৃষকদের ভাষ্য, বছরের পর বছর পরিশ্রম আর বিনিয়োগের পর ফলন পাওয়ার সময় এমন ঝড় তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি তিনি আনারস ও কলাবাগানে ব্যয় করেছেন। আকস্মিক এই ঝড়ে তার সব আশা-আকাঙ্ক্ষা যেন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।

কৃষকদের কাছে কলাগাছের মাজা ভেঙে যাওয়া শুধু একটি গাছের ক্ষতি নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে তাদের পরিবারের স্বপ্ন ও জীবিকার হিসাব। আকস্মিক এই ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের এখন ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষা।