মন্ত্রী-এমপিদের পাশাপাশি তাদের নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাবও প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তলবের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে নিজের ব্যাংক হিসাব দিয়ে এ প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (০২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি জানান।
পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, ‘রাষ্ট্রীয় স্বার্থে যদি কারও ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়, তাহলে প্রত্যেক এমপি-মন্ত্রীদের ব্যাংক হিসাবও তলব করা উচিত। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তাদের নিকটাত্মীয় ও আত্মীয়স্বজনদের ব্যাংক হিসাবও নিয়মিত তলব করা হোক।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সম্পদ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। পোস্টে তিনি দাবি করে লেখেন, প্রায় ২০ বছর আগে সালাউদ্দিন আহমেদ গুলশানের অন্যতম দামি ও বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স ‘প্লাটিনাম রেসিডেন্স’-এ একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের মালিক হয়েছেন। গুলশানে তার একাধিক বাড়ি ও সম্পদ রয়েছে বলেও আলোচনা রয়েছে। সাজার কারণে সালাহউদ্দিন আহমদ ২০০৮ সালে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। উনার স্ত্রী হাসিনা আহমদ অংশ নেন।
নির্বাচনী হলফনামার বরাত দিয়ে হাসনাত দাবি করেন, ২০০৮ সালে সালাহউদ্দিন আহমেদ ও তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদের মোট সম্পদ ছিল ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ২০১৮ সালে ১২ কোটি ৭০ লাখ এবং ২০২৫ সালে ৩০ কোটি টাকা। এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘এত সম্পদের উৎস কী?।’
পোস্টে হাসনাত লেখেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো: এই বিপুল সম্পদের প্রকৃত উৎস কী, এবং তার পক্ষে কি স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হিসাব রয়েছে? সুতরাং স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি-মন্ত্রীদের নিকটাত্মীয় ও আত্মীয়স্বজনদের ব্যাংক হিসাবও প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় স্বার্থে তলব করা হোক।’
এরপর তিনি বলেন, ‘আমাকে দিয়েই তা শুরু হোক।’
হাসনাত আরও লেখেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরের সম্পদের হিসাব নিজেরাই প্রকাশ করেছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এমন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ক্ষেত্রে একই ধরনের উদ্যোগ নেয় কি না, তা দেখার আহ্বান জানান তিনি।