বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পবিত্র ওমরা পালন শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অন্যান্য যাত্রীর মতো তিনিও বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন। এর প্রতিবাদে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের কাছে হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি ও লাগেজ নিয়ে অসদাচরণের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশও জানিয়েছে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত করা হবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, তদন্ত শুরুর আগেই বৃহস্পতিবার রাতে মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এ মামলা ও গ্রেপ্তারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনা ও যাত্রী হয়রানির বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অপ্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা, অসম্মানজনক আচরণ, লাগেজ নিয়ে হয়রানি, মূল্যবান সামগ্রী হারানোর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি এবং এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে ঘোরানোর মতো নানা বিষয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
নারী, অসুস্থ ও বয়স্ক যাত্রীদেরও বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানসহ বিমানবন্দরে ভোগান্তির শিকার হওয়া যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার অবিলম্বে মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ, সেবার মান নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।