মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
জুলাই মাসের শুরু থেকেই মুন্সিগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সিজনাল ভাইরাস জ্বর। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে, স্থান না পেয়ে অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন ভবনের বারান্দায়।
হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শুধু সদর হাসপাতালেই ছয় শতাধিক ডেঙ্গু এবং আড়াই হাজারের বেশি ভাইরাস জ্বরের রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে জুলাইয়ের ২৪ তারিখ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৩৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী।
বর্তমানে হাসপাতালে ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন, যাদের বড় অংশই নারী ও শিশু। আক্রান্তদের ৯০ শতাংশেরও বেশি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার নতুনগাঁও, মহাকালী, পঞ্চসার, ইসলামপুর, খালিস্ট এবং মিরকাদিম পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। পর্যাপ্ত ওষুধ, প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও মশারি না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে। একই সঙ্গে হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিইউ ইউনিট চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও লোকবল সংকটে তা অচল হয়ে রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় পৌরসভাগুলোর বিরুদ্ধে মশক নিধনে চরম উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, আলাদা আইসোলেশন কক্ষসহ পর্যাপ্ত ওষুধ ও স্যালাইনের ব্যবস্থা রয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। অন্যদিকে মুন্সিগঞ্জ ও মিরকাদিম পৌর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, মশক নিধন ও সচেতনতায় নিয়মিত স্প্রে এবং ফগার মেশিনের ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হওয়া এড়াতে বাসা-বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা এবং আক্রান্তদের পুষ্টিকর তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা. মো. সাইদুর রহমান হিমেল।