মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিবেদকঃ
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে জামিরতায় প্রযুক্তিনির্ভর ‘ভিশন সেন্টার’ উদ্বোধন করলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী – জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতার দাপট ও অর্থবিত্ত গড়ার পুরোনো ধারার রাজনীতি বদলে সততা, জবাবদিহিতা এবং সার্বজনীন সেবা নিশ্চিতের ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের’ আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
একই সাথে গ্রামপর্যায়ে প্রযুক্তিভিত্তিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের জামিরতায় তিনি উদ্বোধন করেছেন অত্যাধুনিক ও নারী-নেতৃত্বাধীন ‘জামিরতা ভিশন সেন্টার’।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে ভিশন সেন্টার উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিত্বের আমূল পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “রাজনীতিতে পুরোনো বন্দোবস্ত ছিল—একবার ভোট পেয়ে এমপি হলে পাঁচ বছর আর জনগণের কাছে আসতে হতো না। কিন্তু আমরা সেই পুরোনো বন্দোবস্ত রাখতে চাই না। নতুন বন্দোবস্ত হচ্ছে রাজনীতিতে কোনো দালান-কোঠা বা গাড়ি-বাড়ি বানানোর সুযোগ থাকবে না।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, “যারা ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের দায়িত্ব নিতে আসবেন—নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে দেখা যাবে তাদের ব্যাংক ব্যালেন্স কমছে, বাড়ছে না। জনপ্রতিনিধিদের নির্ধারিত সময়ের জন্য এসে ফুলটাইম জনগণের কাজ করতে হবে।” প্রতিমন্ত্রী এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টার আগেই অফিসে পৌঁছে দেশের কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
প্রযুক্তিনির্ভর ‘জামিরতা ভিশন সেন্টার’ ও গ্রিন হেলথকেয়ার
স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড মুহিত জানান, সারা বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে আধুনিক চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়ার যে স্বপ্ন বিগত ৩ বছর ধরে দেখা হচ্ছিল, জামিরতার এই ভিশন সেন্টার তারই একটি মাইলফলক যাত্রা।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ ঘরে বসেই ঢাকা বা নিউইয়র্কের মতো শহরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে সরাসরি চোখের পরামর্শ ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী চশমা ব্যবহারের সামাজিক কুসংস্কার উড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কম বয়সে চশমা পরা নিয়ে সমাজে যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে তা দূর করতে হবে। চশমা কোনো দুর্বলতা নয়, এটি প্রয়োজনে যেমন দৃষ্টিশক্তি স্পষ্ট করে তেমনি এটি একটি ফ্যাশন ও স্মার্টনেস।
সঠিক সময়ে চশমা না পরায় বহু শিক্ষার্থী পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়ে।” তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের নিজেদের এলাকার চোখের রোগী ও প্রবীণদের ছায়ানিযুক্ত চোখ শনাক্ত করে এই ভিশন সেন্টারে নিয়ে আসার ‘দৃষ্টি দূত’ হওয়ার পরামর্শ দেন।
অরবিস ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় এবং আমুন্ড ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ফিউচার ভিশন সেন্টার’ প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা পরিচালনা করবে ‘প্রফেসর এম এ মতিন বিএনএসবি বেজ আই হসপিটাল’। প্রকল্পটির আওতায় দেশজুড়ে ২৫টি পরিবেশবান্ধব নারী-নেতৃত্বাধীন ‘গ্রিন ভিশন সেন্টার’ স্থাপন করা হচ্ছে, যা সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চলবে এবং এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
অরবিস ইন্টারন্যাশনালের বিশ্বখ্যাত টেলিমেডিসিন ও ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম সাইবারসাইট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পরামর্শের পাশাপাশি রিয়েল-টাইম ভিডিও কনসালটেশন, চোখের দৃষ্টি পরীক্ষা, কম খরচে চশমা সরবরাহ, এবং গ্লুকোমা ও ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি স্ক্রিনিং সেবা প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন এবং অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনীর আহমেদ।