ভোলা প্রতিনিধি
ভোলায় পৃথক দুটি প্রতিষ্ঠানে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসাসেবার মান, রোগীর নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি ঘটনা ঘটেছে ভোলা সদর হাসপাতালে, অন্যটি সদর উপজেলার কালীনাথ রায়ের বাজার এলাকার বন্ধন ক্লিনিকে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
নবজাতকের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের বাসিন্দা আরজু ও রনি দম্পতি সন্তান প্রসবের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের অভিযোগ, ভর্তি হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কর্তব্যরত কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা প্রসব কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, প্রসবের সময় নবজাতকের মাথায় আঘাত লাগে। জন্মের পর মেয়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবারে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও দেখা দিয়েছে।
নবজাতকের পরিবারের ভাষ্য, শোকের কারণে তারা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেননি। ময়নাতদন্তও করানো হয়নি। পরিবারের এক সদস্য বলেন, “যে সন্তান পৃথিবীর আলোই দেখতে পারল না, তাকে আর কোনো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিতে চাইনি।”
পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার সিভিল সার্জনকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজনেরা।
এদিকে, একই দিনে ভোলা সদরের কালীনাথ রায়ের বাজার এলাকার বন্ধন ক্লিনিকে আরেক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় পরে সমঝোতা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করলেও বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দুই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সচেতন মহলের অনেকে বলছেন, সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান, রোগীর নিরাপত্তা এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হোক। কোনো অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
তবে এ বিষয়ে ভোলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও বন্ধন ক্লিনিকের বক্তব্য পাওয়া যায় নি।