মজনুর রহমান আকাশ, মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ ১৬-০৬-২৬ ইং
মেহেরপুরে আশ্রায়ন প্রকল্পের অধিনে জমি আছে ঘর নাই ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য ১২৮৩ টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হলেও সিংহভাগ ঘরই খালি পড়ে আছে। ঘর বরাদ্দের সময় প্রকৃত ভূমিহীন ও যারা বিত্তহীন নয় এমন পরিবারের ঘর বরাদ্দ দেয়ায় অধিকাংশ পরিবারই ঘরে থাকেন না।
তবে প্রশাসন বলছে, সঠিক নিয়মেই ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে কী কারণে তারা ঘরে থাকেন না সেটি স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি তারা।
জেলা , উপজেলা ও ভূমি অফিস এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানা গেছে, আশ্রায়ন প্রকল্পের অধিনে জেলায় ২০২১ সাল থেকে পর্যায় ক্রমে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১২৮৩ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়।
সেসময় দলীয় প্রভাব ও বিশেষ সুবিধা দিয়ে প্রভাবশালীয়রাও ঘর বরাদ্দ নেন। এ সময়ে অনেকেই নিজের নামে ঘর বরাদ্দ নিয়ে অন্যকে ভাড়া দেন। আবার অনেকেই ঘরে না থেকে সেটি তালাবদ্ধ করে রাখেন। প্রকৃত ব্যাক্তিদের মধ্যে ঘর বরাদ্দ না দেয়ায় সিংহভাগই ওই ঘরে বসত করেন না। ফলে ওই ঘরগুলি এখন অপিবাধিদের স্বর্গনাজ্যে পরিনত হয়েছে।
মোহাম্মদপুরের গৃহহীন প্রকল্পের বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ঘর বরাদ্দের সময় সঠিকভাবে বন্টন না হওয়ায় তারা ঘরে থাকেন না। অনেক প্রভাবশালী ঘর বরাদ্দ নিয়ে এখানে থাকেন না।
ফলে অনেক লোকজন এসে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও মাদক সেবন করে। এযেন অপরাধিদের স্বর্গরাজ্য। একই কথা জানালেন স্থানীয় বসতিরা। আবার গৃহ নির্মানের সময় নিম্নমানের সাগ্রী ব্যবহারে অনেক ঘর বসতের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এ প্রকল্পের খালী ঘরে নানা ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ড ঘটে। দেহ ব্যবসা মাদক ব্যবসা ও চুরি ছিন্তায়ের পরিকল্পনা এখান থেকে করা হয়। এতে করে অনেকেই আর এখানে থাকতে চান না। নিরাপত্তাহীনতার অভাব রয়েছে। আবার অনেকেই এসব ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিবেন বলেও মতামত ব্যক্ত করেছেন।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন ও মেহেরপুর জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।