নেত্রকোনা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার মদন থানার পুলিশ খসরু পারভেজ ভূঁইয়া (৩৮) নামের সৌদি প্রবাসী যুবককে আটক করেছে। সোমবার রাতে পাশের জেলা কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার থানেশ্বর এলাকার সালিশে বৈঠক থেকে তাকে আটক করা হয়।
এর মধ্যে তিনি অনেকের কাছ থেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। খসরু গ্রেফতারের খবর শুনে প্রতারণার স্বীকার হুমায়ুন কবির, সোবেল, জুয়েল, মোজাম্মেল, শরিফুজ্জামান শুভ সহ কয়েকজন থানায় ভিড় করেন। তবে জনশক্তি রপ্তানির তার কোন সংশ্লিষ্ট দফতরের লাইসেন্স নেই।
এর আগে গত বছর ২২ জানুয়ারি সৌদি আরবে বেশি বেতনের কাজ দেওয়ার কথা বলে সৌদি আরব নিয়ে যান। কাঙ্খিত কাজ না দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে পাসপোর্ট সহ সব কাগজপত্র নিয়ে জিম্মি করে। এরপর তার কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করে দেশে ফেরত পাঠান।
অভিযুক্ত খসরু পারভেজ ভুঁইয়া কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার থানেশ্বর গ্রামে আনডর আলীর ছেলে।
ভুক্তভোগী মোহন মিয়া মদন পৌর শহরের মদন বাজার এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।
মামলার এজহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুসরু পারভেজ ভূঁইয়া ১০-১২ বছর আগে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি আরব পাড়ি জমান। এর মধ্যে তিনি তার বড় ভাই জাকির হোসেন ভূঁইয়ার সহযোগিতায় সৌদি আরবে লাইসেন্সবিহীন অবৈধভাবে জনশক্তি রপ্তানির কাজ শুরু করেন। সৌদি আরবে নিয়ে তিনি প্রতারণার ফাঁদ আকেন।
যাদেরকে তিনি সৌদি নিয়ে যান তাদের পাসপোর্ট সহ সব কাগজপত্র জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাদেরকে সৌদি আরবে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিবেন বলে ভয় দেখাতেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছেন। যিনি টাকা দিতে অস্বীকার কিংবা প্রতিবাদ করেছেন তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করতেন খসরু।
প্রতারণা ফাঁদে পরা ব্যক্তিদের মধ্যে মোহন মিয়াও একজন। তিনি বেশি বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে খসরু পারভেজ ভূঁইয়া মোহন কে সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তাব দেন। সে সুবাদে চুক্তি অনুযায়ী মোহন মিয়া সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করে সৌদি আরব যান গত বছর ২২ জানুয়ারি।
সৌদি আরব যাওয়ার পর সৌদি আরব যাওয়ার পর খসরো তার ভাড়া করা একটি বাড়িতে নিয়ে উঠান। চুক্তি অনুযায়ী মোহন মিয়া কে কাজ দেওয়া হয়নি এর মধ্যে মোহন মিয়ার কাছ থেকে পাসপোর্ট সহ সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে যান খসরু।
মোহন কাঙ্ক্ষিত কাজ না পেলে চুক্তি অনুযায়ী আকামার কথা বলেন। এক পর্যায়ে খসরু তাকে জিম্মি করেন। পরে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করলে সাড়ে ১১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মোহন দেশে ফিরেন।
অতিরিক্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, এর সিআর নেত্রকোনা মোকদ্দমা নং-০৫/২৬, স্মারক নং-৪২৮ মোতাবেক চলতি বছর ৯জুন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ এর ৩১/৩২/৩৩/৩৫/৩৬ ধারায় মোহন বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী মোহন মিয়া বলেন, পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতার জন্য খসরুর ফাঁদে পড়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলাম। সৌদি আরব যাওয়ার পর পাসপোর্ট সহ সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে যায় খসরু। কিন্তু সে আমার কাঙ্ক্ষিত কাজ না দিয়ে উল্টো জিম্মি করে মুক্তিপণ সাড়ে এগারো লাখ টাকা নিয়ে দেশে ফেরত পাঠায়।
ইটনা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রিয়াদ বলেন, খসরু পারভেজ ভূঁইয়া কয়েকদিন আগে সৌদি আরব থেকে বাড়ি আসেন। এর আগে তিনি সৌদি আরব অনেক লোক নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অনেক রকমের অভিযোগও শুনেছি। রবিনকে সৌদি আরব নেন খসরু।
নেওয়ার পর চুক্তি অনুযায়ী তাকে সৌদি আরবে একটি লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা ছিল। এটি করে না দিয়ে খসরু গড়িমসি শুরু করেন। পরে আরও অতিরিক্ত টাকা দিয়ে রবিন সেখানে লাইসেন্স করে নেন। এই টাকা ফেরত এর জন্য মঙ্গলবার রাতে একটি সালিশি বৈঠক আমরা এলাকাবাসী বসি।
এ সময় নেত্রকোনার মদন থানায় মামলা থাকায় পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করেন।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সালাউদ্দীন করিম জানান, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন ২০১৩ অনুযায়ী খসরু পারভেজ ভূঁইয়া নামে এক সৌদি প্রবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।