মোঃআতেফ ভূঁইয়া বার্তা সম্পাদক:
গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গোপনে ‘টর্চার সেল’ বা নির্যাতনকেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে জেলা আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির সভায়। অভিযোগটি উত্থাপন করেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান। তিনি দাবি করেন, জেলার অন্তত ৩ থেকে ৪টি স্থানে এমন নির্যাতনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে, যেখানে আইন ও মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির সভায় তিনি এ অভিযোগ উত্থাপন করেন। সভায় উপস্থিত প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো সভ্য সমাজে এ ধরনের কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারা এসব টর্চার সেল পরিচালনা করছে, তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করতে হবে।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, অপরাধ দমনের নামে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন নিজেদের হাতে আইন তুলে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ক্ষমতাসীন দলের কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি অপরাধীদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। এছাড়া চুরি, ছিনতাই ও সড়ক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানান তিনি।
সভায় উত্থাপিত অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেশে টর্চার সেলের অভিযোগ শোনা গেলেও আইনের শাসনে বিশ্বাসী কোনো রাষ্ট্রে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় সাম্প্রতিক চুরি ও অপরাধের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি আত্মহত্যার প্রবণতা রোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, “সভায় আমিও উপস্থিত ছিলাম। অভিযোগ উত্থাপনের পরপরই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কে বা কারা কোথায় এ ধরনের টর্চার সেল গড়ে তুলেছে, তা খুঁজে বের করা হবে।”
তবে অভিযোগে উল্লিখিত টর্চার সেলগুলোর অবস্থান বা পরিচালনাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্যের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।