সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

টাঙ্গাইল পাসপোর্ট অফিসে টাকা নেওয়ার গোপন সংকেত, ভোগান্তি চরমে

আব্দুল্লাহ আল মামুন /টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট আবেদনকারীর গোপন সংকেত কিংবা আইডি নম্বর ছাড়া মেলেনা পাসপোর্ট সেবা। অপরদিকে চ্যানেল ফি’র মাধ্যমে গোপন নম্বর ফেলতে গ্রাহকদের গুনতে হয় প্রায় ২৫০০ টাকা। এতে সহজেই নম্বরধারী গ্রাহকরা পাসপোর্টের সেবা পাচ্ছেন। এদিকে সাধারণ মানুষ গোপন নম্বর ছাড়া চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা এ ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ২০:১২

আব্দুল্লাহ আল মামুন /টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধিঃ

টাঙ্গাইলে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট আবেদনকারীর গোপন সংকেত কিংবা আইডি নম্বর ছাড়া মেলেনা পাসপোর্ট সেবা। অপরদিকে চ্যানেল ফি’র মাধ্যমে গোপন নম্বর ফেলতে গ্রাহকদের গুনতে হয় প্রায় ২৫০০ টাকা। এতে সহজেই নম্বরধারী গ্রাহকরা পাসপোর্টের সেবা পাচ্ছেন। এদিকে সাধারণ মানুষ গোপন নম্বর ছাড়া চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তারা এ ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ চান।

দেশে সরকারের পরিবর্তন হলেও টাঙ্গাইলে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের দূর্নীতির কোন পরিবর্তন হয়নি। এখনো অফিসে পাসপোর্ট আবেদনকারীর গোপন ও আইডি নম্বর ছাড়া মেলে না পাসপোর্ট সেবা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ধরনের অভিযোগ অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। স্থানীয় বাসিন্দা বাবু জানান, পাসপোর্ট অফিসের কয়েকজন ব্যক্তি আছে তাদের মাধ্যমেই পাসপোর্টের আবেদন ফাইলের ভুলত্রুটি অথবা সংশোধন করে দেওয়ার নামে সুবিধা নিয়ে থাকেন।

 

আর সেই সুবিধা নিতে গেলে মোবাইল বিকাশ নম্বরে লেনদেন করে থাকেন। আর সেই মোবাইল নম্বটির হোয়াটসঅ্যাপে দিতে হয় আবেদনকারীর রেজিস্ট্রেশন ও আইডি নম্বর। এরমধ্যে একজন ১০৫ নম্বর কক্ষে মাইনুল কবির ও জুবায়ের আহমেদ’সহ কয়েকজন রয়েছে । বাবু আরো জানান, তাদের সাথে সুনির্দিষ্ট দু-চারজন দালাল কাজ করে থাকেন। সেই দালালরা আবেদনকারীর ফরমে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ও আইডি নম্বরটি মাইনুল কবিরের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান।

এরপর তার মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে তাদের সাথে লেনদেন করে থাকে। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক কয়েকজন দালাল বলেন, পাসপোর্টের জন্য নতুন আবেদন ফাইল অফিসে জমা পড়লে সে সমস্ত আবেদন ফাইল ছোটখাটো ত্রুটি অথবা কোন কাগজ না থাকলে আবেদন ফাইল জমা নেন না। সেই ফাইল নিয়ে যখন পাসপোর্ট করতে আসা ব্যক্তিরা বাহিরে আসে তখন তাদের সাথে কথা বলে, সেই দিনেই তাদের ফিঙ্গার করিয়ে দিই। এতে তাদের সাথে ১ হাজার ৫০০শ  টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার ৫০০শত টাকা পর্যন্ত চুক্তি করি। তা না হলে পাসপোর্ট করতে আসা ব্যক্তিরা পরপর কয়েকদিন ঘুরে যখন পারে না।  তখন আবার আমাদের (দালালদের) কাছেই আসতে হয়।

 

পাসপোর্ট অফিসের সামনে চা পানের দোকানদার বলেন, এই পাসপোর্ট অফিসে বর্তমানে এখানকার স্থানীয় দালালদের দৌরাত্বের চেয়ে অফিসের মাধ্যমে দুরের দালালরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় বসে পাসপোর্ট ধারীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা গুনে নিচ্ছেন। তারা আরো বলেন স্থানীয় দালালরা মাঝেমধ্যেই  ঝুঁকিতে থাকে। বর্তমানে কয়েকদিন পর পরই অভিযান হচ্ছে। কিন্তু অফিসের মাধ্যমে যেসব দালাল রয়েছে তারা কোন ঝুকির  মধ্যে থাকে না। তারা শুধু মোবাইলের মাধ্যমে সমন্বয় করে যান।

 

যিনি পাসপোর্ট করবেন তার সাথে সমন্বয় করে দেন পাসপোর্টধারীকে। এতে তথ্য ফাঁস হওয়ার কোন সুযোগ নাই। এছাড়াও কোথাও কোন ধরনের দৌড়াদৌড়ি করতে হয়না পাসপোর্টধারীদের। মির্জাপুর থেকে পাসপোর্ট করতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী জানান, তার সাথে ১০ হাজার টাকা চুক্তি হয়েছিল। শুধু একদিন এসে ফিঙ্গার দিয়ে গেছে। এক মাস পরে এসে পাসপোর্ট নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমি শুধু তার মোবাইল নম্বরে এবং সেই মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপে ভোটার আইডি কার্ড ছবি, বাবা মার ভোটার আইডি ও ছবি কার্ড দিয়েছিলাম। বাকি সব তারা করে দিয়েছে।

 

সখীপুর থেকে পাসপোর্ট করতে আসা ওসমান আলীর ছেলে রাজমিস্ত্রি আরমান আলী ও তার বড় ভাই আকরাম আলী বলেন, সখিপুরের বড়চওনা গ্রামের আনোয়ার হোসেন সব মিলে প্রায় ৯ হাজার টাকা নিবেন পাসপোর্ট করে দিতে। পাসপোর্ট অফিসে এসে ঘোরাঘুরি সহ বিভিন্ন ধরনের হয়রানি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য স্থানীয় দালাল ধরে পাসপোর্ট করে নিচ্ছি। তিনি জানান পাসপোর্ট করতে এসে নানা ধরনের কাগজ পত্রের  হয়রানি হতে না হয়, তাই স্থানীয় দালালের সাথে চুক্তি করে নিয়েছি। যাতে  কোন ধরনের ঘোরাঘুরি করতে না হয়।

 

শুধু একদিন পাসপোর্ট অফিসে এসে ফিংগার দিয়ে গেলাম। তিনি আরো বলেন স্থানীয় দালাল আনোয়ার হোসেন পাসপোর্ট অফিসে আসেনি।  তিনি অফিসের লোকের সাথে কথা বলে দিয়েছে। যার সাথে কথা বলে দিয়েছেন তার কাছে এসে আমাদের কাজ হয়েছে। তবে পাসপোর্ট অফিসে কার সাথে কথা বলে দিয়েছেন সে কথা বলতে চাননি। একইভাবে ঘাটাইল উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের কামার চালা গ্রামের  রিয়াজ উদ্দিন বলেন আমি কোনদিন পাসপোর্ট অফিসে আসিনি। আজ ছেলের জন্য এই পাসপোর্ট অফিসে এসেছি। পাসপোর্ট অফিসেরই এক কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে ৮ হাজার টাকার মাধ্যমে তিনি তার ছেলের জন্য পাসপোর্ট করার চুক্তি করেন। কিন্তু তিনি পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তার নাম বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা নুরুল ইসলামের ছেলে ইরান বলেন, আমি পাসপোর্টের আবেদন ফরম জমা দিতে গিয়ে ফেরত এসেছি। সেখানে আমার কাছে শিক্ষার্থীর প্রত্যয়ন পত্র চায়।

 

আমি বলেছি আমি এখন পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছি। তাহলে কোথায় থেকে আমি আইডি কার্ড আনবো। আমি আরো বলেছি আমার কাছে সার্টিফিকেট আছে সেটি দেখেন। তারা বলেন শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড লাগবে। এত করে আমি ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। মির্জাপুর উপজেলার পাকুল্লা গ্রামের সানি বলেন নিজেই ব্যাংক ড্রাফ থেকে শুরু করে আবেদন করেছেন। আবেদন ফরম জমা দিতে এলে, তারা তা ফেরত দিয়েছে। পাসপোর্ট অফিস থেকে বলা হয়েছে আমি কি কাজ করি। সেই কাজের জন্য একটি প্রত্যয়ন পত্র লাগবে। এরপর পাসপোর্ট অফিস থেকে বাহির হলে কিছু ওৎ পেতে থাকা দালালরা আমাকে সাহায্যের কথা বলেন। বিনিময়ে ২ হাজার ৫০০শত টাকা চেয়েছে। তাহলে আমার কাজের উপর প্রত্যয়ন পত্র লাগবে না। কথাগুলো বলতে না বলতেই উপস্থিত হন বিপ্লব নামে এক দালাল। তিনি বলেন আমার কাছে কাজটি দেন।

 

আমি চট করে কাজটি করে দিবো। কারণ আমার একটি পরিচয় আছে। আমি একজন সাংবাদিক ক্রাইম রিপোর্টার। তিনি বলেন আমার সাথে উপ-পরিচালক থেকে শুরু করে আবেদন পত্র যিনি জমা নেন তার সাথে আমার ভালো সম্পর্ক। কাজে আমি আপনাদের কাজটি করে দিতে পারবো। টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহায়ক মাইনুল কবির বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে সেটি আদৌ সত্য নয়। সাধারণ গ্রন্থাগারের সহ-সভাপতি খন্দকার নাজিম উদ্দিন জানান, পাসপোর্ট অফিসে দালাল রোধে মাঝে মধ্যেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

কিছুদিন পরপরই পাসপোর্ট অফিসের সামনে দালাল রোধে প্রশাসনের লোকজন এসে কিছু দালাল ধরে নিয়ে যায়। আবার কিছুদিন যাওয়ার পরে আগের মতই ওরা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে টাকা নেয়। তবে অফিসের লোক ভালো হলে, দালাল মুক্ত এমনিতেই হয়ে যাবে। তবে তিনি আরো মনে করেন পাসপোর্ট অফিসের সকল ধরনের দুর্নীতি বন্ধের ক্ষেত্রে অফিসের লোকদের সদিচ্ছাটাই যথেষ্ট। টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ- পরিচালকের দায়ত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক জেবুন্নাহার পারভীন জানান, অফিসে লোকবল কম থাকলেও পাসপোর্টধারীদের সেবা দিতে সচেষ্টায় রয়েছি। তবে তিনি মনে করেন পাসপোর্ট অফিসে বেশির ভাগ মানুষ পাসপোর্ট করতে তদের আবেদনে তথ্য গোপন রাখেন।

 

এতে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তিনি আরো বলেন গত কয়েক মাসে পাসপোর্ট আবেদনের জন্য বেশ কিছু চাপ ছিল। প্রতিদিন প্রায় ৫০০শ আবেদন পড়তো। এখন বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ শত আবেদন হচ্ছ। তিনি আরো বলেন পাসপোর্ট অফিসের বিষয়ে যে সমস্ত অভিযোগ রয়েছে সেটি খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়াও আমার অফিসে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদেরকে আমি বদলি করে দিতাম। কিন্তু আমার হাতে বদলির সেই ক্ষমতা নেই। টাঙ্গাইলে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে টাকার বিনিময়ে গোপন সংকেত ছাড়া ভোগান্তি মুক্ত পাসপোর্ট সেবা পেতে, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।